কোরআনুল কারিমের সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত ৫৩ অনুসারে:
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
وَ قُلۡ لِّعِبَادِیۡ یَقُوۡلُوا الَّتِیۡ هِیَ اَحۡسَنُ ە اِنَّ الشَّیۡطٰنَ یَنۡزَغُ بَیۡنَهُمۡ ە اِنَّ الشَّیۡطٰنَ كَانَ لِلۡاِنۡسَانِ عَدُوًّا مُّبِیۡنًا ﴿۵۳﴾
সরল অনুবাদ:
“আর আমার বান্দাদেরকে বলুন, তারা যেন এমন কথা বলে যা উত্তম। নিশ্চয় শয়তান তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উস্কানি দেয়; নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।”
এই আয়াতে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ন:
১. উত্তম ও কোমল ভাষায় কথা বলার নির্দেশ
২. মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করার ক্ষেত্রে শয়তানের ভূমিকা
৩. শয়তানের প্রকাশ্য শত্রুতা সম্পর্কে সতর্কতা
ইমাম তাবারী, ইবনে কাসীর ও কুরতুবী তাফসিরে উল্লেখ করেছেন, কঠোর, তিক্ত বা অপমানজনক ভাষা মানুষের মধ্যে রাগ ও প্রতিশোধের বীজ বোনে, যা শয়তান উস্কানি দিয়ে দ্বন্দ্ব এবং সহিংসতার দিকে পরিচালিত করে।
আয়াতের বাস্তব শিক্ষা:
-
কথার মধ্যেই শান্তি ও অশান্তির বীজ থাকে
-
মতভেদ হলে ভাষা আরও কোমল হওয়া উচিত
-
সামাজিক বিভেদ ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের পেছনে শয়তানের প্ররোচনা থাকে
-
বিতর্কে জিতার চেয়ে সম্পর্ক রক্ষা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ
-
দাওয়াত, শিক্ষা, পরিবার, রাজনীতি—সবক্ষেত্রেই উত্তম ভাষা ইসলামের নির্দেশ
আয়াতটি মুমিনদের শিক্ষা দেয়, যে সম্পর্ক রক্ষা ও সামাজিক শান্তির জন্য তাদের ভাষা হবে কোমল, সম্মানজনক ও কল্যাণমুখী।











