তারেক রহমান ‘কৃষক কার্ড’ উদ্বোধন করতে এক দিনের সফরে মঙ্গলবার টাঙ্গাইল যাচ্ছেন। এদিন দেশের ১১ উপজেলায় একযোগে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন এবং কৃষকদের হাতে এই কার্ড তুলে দেবেন। পাশাপাশি তিনি সন্তোষে গিয়ে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী–এর মাজার জিয়ারত করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দলীয় সূত্র জানায়, সফর উপলক্ষে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে একটি কৃষিমেলার আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন থাকবে, যেখানে দেশের খ্যাতিমান শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রি-পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় এই ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জানা গেছে, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টাঙ্গাইল সদরসহ দেশের ১১ উপজেলায় একযোগে এই কার্যক্রম চালু হবে। প্রথম ধাপে প্রায় ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
এই কার্ডটি কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের চাষি ও খামারিদের জন্য প্রযোজ্য হবে এবং এটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কৃষি উপকরণ কেনার জন্য বছরে আড়াই হাজার টাকা করে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা সার, বীজ, কীটনাশক ও পশুখাদ্য ক্রয় করতে পারবেন। টাঙ্গাইল ছাড়াও পঞ্চগড়, বগুড়া, ঝিনাইদহ, পিরোজপুর, কক্সবাজার, কুমিল্লা, জামালপুর, রাজবাড়ী ও মৌলভীবাজার জেলার নির্দিষ্ট উপজেলাগুলোতেও এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মাধ্যমে দেশের কৃষকদের একটি নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ তৈরি হবে। একই সঙ্গে কৃষি ভর্তুকি, ঋণ সুবিধা ও অন্যান্য সরকারি সহায়তা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে প্রদান করা সম্ভব হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে সরকারি ও দলীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
তিনি বলেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের কৃষকদের উন্নয়নে ‘কৃষক কার্ড’ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। পহেলা বৈশাখের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে টাঙ্গাইলের মাটিতে এই কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়া জেলাবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। তিনি আরও জানান, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ১৫ জন কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেবেন।











