রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকালের পর মুসলিম সমাজ কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়। নবুওয়াতের ছায়া সরে গেলে অনেকেই সালাত স্বীকার করলেও যাকাত আদায় থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দেয়।
এই সংকটময় সময়ে খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন আবূ বকর সিদ্দীক (রা.)। তিনি বললেন:
وَاللهِ لأقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلاَةِ وَالزَّكَاةِ فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ وَاللهِ لَوْ مَنَعُونِي عَنَاقًا كَانُوا يُؤَدُّونَهَا إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهَا قَالَ عُمَرُ فَوَاللهِ مَا هُوَ إِلاَّ أَنْ قَدْ شَرَحَ اللهُ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ فَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ
“আল্লাহর শপথ! তাদের বিরুদ্ধে নিশ্চয়ই আমি যুদ্ধ করবো যারা সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, কেননা যাকাত হল সম্পদের উপর আরোপিত হক্ব।”
উমার (রা.) বলেন, “আল্লাহ আবূ বকর (রা.)-এর হৃদয় বিশেষ জ্ঞানালোকে উদ্ভাসিত করেছেন, বিধায় তাঁর সিদ্ধান্তই যথার্থ।” (বুখারি, হাদিস: ১৪০০)
এই হাদিস ইসলামের মৌলিক কাঠামো সংরক্ষণে আবূ বকরের দৃঢ় ঈমান, গভীর প্রজ্ঞা ও শরয়ি অবস্থানের প্রমাণ। সালাত ও যাকাত উভয়ই ইসলামের স্তম্ভ; একটিকে বাদ দিলে অন্যটি পূর্ণতা পায় না। যাকাত কেবল আর্থিক অনুদান নয়; এটি আল্লাহর নির্ধারিত হক্ব, যা সমাজের ভারসাম্য রক্ষা করে।
এই ঐতিহাসিক উদাহরণ আজও প্রমাণ করে, ইবাদত ও সামাজিক ন্যায়ের বিধান অবিচ্ছেদ্য এবং খিলাফতের দায়িত্বই দ্বীনের মৌলিক বিধান রক্ষার অপরিহার্য কর্তব্য।











