কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক পীরকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পরদিন রোববার সকালেও ওই দরবার এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দরবারের ভেতরে থাকা দুটি দালানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে দুটি আধাপাকা ঘর। একটি ঘর থেকে এখনো ধোঁয়া বের হচ্ছিল। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ধ্বংসাবশেষ। এলাকাজুড়ে নীরবতা, তবে আশপাশে জড়ো হওয়া নারী-পুরুষ ও শিশুর চোখেমুখে আতঙ্ক স্পষ্ট। দরবারের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে।
নিহত পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরের বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, তাঁর ভাইকে দোতলা থেকে টেনে নামিয়ে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “যদি কোনো অভিযোগ থেকেও থাকে, তার বিচার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এভাবে একজন মানুষকে হত্যা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় এলাকায় হঠাৎ করে কয়েকশ মানুষ জড়ো হয়ে দরবারে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ভাঙচুরের পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেয় এবং তাঁর ভাইকে গুরুতর আহত করে। পরে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুরুতর আঘাত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আহত আরও কয়েকজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন থাকলেও তারা শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, কয়েক বছর আগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনার জের ধরেই শতাধিক মানুষ জড়ো হয়ে দরবারে হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা দরবারের ভবনগুলোতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ভেতরে থাকা লোকজনকে মারধর করে। এতে অন্তত পাঁচ থেকে সাতজন আহত হন। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। ঘটনার বিষয়ে মামলা দায়ের ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।











