মানবসভ্যতা আজ এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের যুগে দাঁড়িয়ে। একদিকে কর্পোরেশনগুলো ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে মানুষের শরীর, মস্তিষ্ক ও বুদ্ধিমত্তাকে অনুকরণ করার জন্য— সুপারকম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্সের মাধ্যমে মানবদেহের প্রতিটি রহস্য উন্মোচনের প্রচেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, সেই একই মহল জোর দিয়ে বলছে— মানুষ কোনো সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি নয়, বরং কোটি কোটি বছর আগে কিছু ‘অযৌক্তিক’ ও ‘অবৈজ্ঞানিক’ প্রাকৃতিক ঘটনাপ্রবাহের ফলে জন্ম নেওয়া এক আকস্মিক জীববৈচিত্র্যের ফল।
এই বৈপরীত্যকেই বিশ্লেষকরা বলছেন “ইডিওক্রেসি প্যারাডক্স”— যেখানে মানবতা নিজেই তার সৃষ্টির ধারণাকে উল্টো পথে নিয়ে যাচ্ছে।
আজ মানবজাতি তার সমস্ত জ্ঞান, সম্পদ ও প্রযুক্তি বিনিয়োগ করছে মহাকাশে জীবন খোঁজার অভিযানে— মৃত গ্রহে, অন্ধকার শূন্যতায়, ধূলিকণার মাঝে ‘অন্য জীবনের’ সন্ধানে। অথচ পৃথিবীতে এখনো কোটি কোটি মানুষ অনাহারে, অর্ধনগ্ন অবস্থায়, আশ্রয়হীন ঘুরে বেড়াচ্ছে।
লোহা, সোনা ও আগুন দিয়ে তৈরি “আধুনিক মন্দির”— মহাকাশযান ও রকেট— আকাশে উৎক্ষেপণ করে মানবজাতি একে বলে “বিজ্ঞান, অগ্রগতি, আশা”। কিন্তু একই সভ্যতা যখন নিজেই নিজের সন্তানদের হত্যা করে, তখন সেটিকে বলে “স্বাধীনতা”।
এটা অজ্ঞতা নয়। এটা বিভ্রান্তিও নয়।
এটা এক ইচ্ছাকৃত আধ্যাত্মিক বিকৃতি— এক সুসংগঠিত ও শয়তানি প্রক্রিয়া, যা সত্য ও প্রকৃতির নিয়মকে উল্টে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মানবসভ্যতার এই প্রবণতাই “অসুরীয় ছাপ” বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট অফ স্যাটান— যেখানে সৃষ্টির মূল অর্থ ও উদ্দেশ্য হারিয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তির ঝলকে।











