গত দুই বছরে হজযাত্রীদের বিমানভাড়া ৪০ হাজার টাকা কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, চলতি বছর হজ শেষে দুটি সরকারি হজ প্যাকেজের যাত্রীদের তিন কোটির বেশি টাকা ফেরত দেওয়া হতে পারে। তবে সরকারি খরচে এবছরও কাউকে হজে নেওয়া হবে না।
উপদেষ্টা বলেন, গত দেড় বছর তিনি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তরগুলোকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সততার সঙ্গে পরিচালনার চেষ্টা করেছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জুগানো হয়েছে।
২০২৫ সালের হজে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় দেশটির একটি মেডিকেল সার্ভিস কোম্পানির সঙ্গে হজযাত্রী প্রতি দুই সৌদি রিয়াল হিসেবে হেলথ সার্ভিস চুক্তি করা হয়েছিল। এবার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে এই সেবা দেশের সব হাজির জন্য বিনামূল্যে করা হয়েছে।
ড. খালিদ হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের হজে যেখানে বিমানভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা, সেখানে ২০২৬ সালের হজে এটি হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। ২০২৫ সালে বিমানভাড়া কমানোর জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রায় ২৭ হাজার টাকা হ্রাস করা হয়েছিল। এবছর ১৩ হাজার টাকা কমানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সরকারি মাধ্যমের হাজিদের হজের খরচ নির্বাহ শেষে গত বছর ৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০১৭-২০২৪ পর্যন্ত হজ এজেন্সির অব্যয়িত প্রায় ৩৮ কোটি টাকা সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ফেরত আনা হয়েছে।
এবছর হজ প্যাকেজ তিনটি ঘোষণা করা হয়েছে। সীমিত আয়ের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য একটি সাশ্রয়ী প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে, যার খরচ ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা। প্যাকেজ-৩-এর হাজিদের জন্য মক্কার হারাম শরীফ থেকে দেড় কিলোমিটার দূরের এলাকায় আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে যাতায়াতে সুবিধা হয় এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হারাম শরীফে আদায় করা সম্ভব হয়।
উপদেষ্টা আরও জানান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শূন্যপদে ১৬৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মামলাজনিত কারণে ১৯৭ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত ছিল। নবম ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের ২৯ জন এবং ১০ থেকে ২০ তম গ্রেডের ৩২ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। শূন্যপদে জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়াও প্রক্রিয়াধীন।











