ভুয়া স্বাক্ষর ও স্ট্যাম্প জালিয়াতির মাধ্যমে ট্রান্সকম গ্রুপের ১৪ হাজার ১৬০টি শেয়ার আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সিইও সিমিন রহমান ও তার মা মিসেস শাহনাজ রহমান।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত শুনানি শেষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে সকালে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহের আদালত মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ছয় আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। আদালতে অনুপস্থিত থাকায় সিমিন রহমান, তার মা শাহনাজ রহমান ও ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক সামসুজ্জামান পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার অপর তিন আসামি—ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক মো. কামরুল হাসান, মো. মোসাদ্দেক ও আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের পক্ষে আইনজীবীরা স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সিমিন রহমান ও তার মা শাহনাজ রহমান আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তারা কালো বোরকা পরে ও মুখ ঢেকে আদালতে উপস্থিত হন। শুনানি শেষে আদালত ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১৩ জুন ট্রান্সকম লিমিটেডের একটি বোর্ড সভা দেখিয়ে প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমানের ২৩ হাজার ৬০০ শেয়ার তার সন্তানদের মধ্যে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বাদী শাযরেহ হকের দাবি, ওই তারিখে কোনো বোর্ড সভাই অনুষ্ঠিত হয়নি। তদন্তে ওই সভা সংক্রান্ত নথিপত্র, নোটিশ বা ই-মেইলের কোনো বৈধ প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, শেয়ার হস্তান্তরের সময় আরজেএসসির নিয়ম অনুযায়ী দাতা ও গ্রহীতা কেউই সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না। এতে ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ৩৮ ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২০ সালের তারিখ দেখিয়ে ব্যবহৃত দুটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ২০২৩ সালে তৈরি করা—এমন তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শাযরেহ হক গুলশান থানায় মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে গত ১১ জানুয়ারি পিবিআই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে, যেখানে সিমিন রহমানসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়।











