আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সনদের জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের ব্যবহার রোধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ রবিবার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এনএসডিএ-এর এটি ছিল গভর্নিং বডির দ্বিতীয় সভা।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনএসডিএ খুবই ভালো ফ্রেমওয়ার্ক। তবে দক্ষতা প্রশিক্ষণের সনদ জালিয়াতি ও প্রতারণার কারণে বাংলাদেশের কর্মীদের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। চাকরিদাতারা যদি আস্থা হারায়, দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ বিফল হবে।
তিনি বলেন, ‘চাকরিদাতারা যেন বলেন, বাংলাদেশ থেকে যেসব কর্মী এসেছে, নিশ্চয়ই তারা ভালো করবে।’ এছাড়া প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন যে, এনএসডিএ কর্তৃক সকল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অভিন্ন মানের সনদ ব্যবস্থা চালু হলে জালিয়াতি রোধে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় বিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি একটি সমন্বিত দক্ষতা ইকোসিস্টেম প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অভিন্ন কারিকুলাম ও মানদণ্ড নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
• উদীয়মান সেক্টরগুলিতে ‘স্কিলস গ্যাপ এনালাইসিস’
• সকল উন্নয়ন প্রকল্পকে এনএসডিএ কারিকুলাম ও কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ডের আওতায় আনা
• বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা
• অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিপুল জনবলকে ‘পুর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি’ মাধ্যমে জাতীয় দক্ষতা সনদের আওতায় আনা
সভায় নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা, শিল্প, গৃহায়ন ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব ও এনএসডিএ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।











