মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এর সামরিক সংঘাত বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির বন্ধ থাকার কারণে জ্বালানি তেল ও এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে বিপিসির কাছে ১৫ দিনের পরিশোধিত তেলের মজুত থাকলেও সরকারের প্রধান চিন্তা এলএনজি নিয়ে। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে লোডশেডিং ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া আমদানি খরচ বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ পড়তে পারে।
বাংলাদেশের গ্যাসের চাহিদার ৩০ শতাংশের বেশি এলএনজি দিয়ে পূরণ হয়। মূলত কাতার ও ওমান থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি আসে, যার প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী। প্রণালী বন্ধ থাকায় এলএনজি সরবরাহ অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত না হলে মার্চ পর্যন্ত সরবরাহে তেমন সমস্যা হবে না। তবে এলএনজি কার্গোর মধ্যে তিনটির সরবরাহ নিশ্চিত নয়। সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ শুরু হয়েছে।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে পরিশোধিত তেল আমদানি হওয়ায় আপাতত তেলের যোগান নিশ্চিন্ত। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা দেশের জ্বালানি খাতে প্রভাব ফেলবে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক আকাশ ও নৌপথে চলাচল বিঘ্নিত হলে সরবরাহের বাধা সৃষ্টি হতে পারে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে শিল্প উৎপাদন ব্যয় ও সার খরচও বাড়বে। গত দুই মাসে ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ৬১ ডলার থেকে ৬৭ ডলারে বৃদ্ধি পেয়েছে। হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বন্ধ হলে তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।











