ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে বাংলাদেশেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বাজারে বিভিন্ন আমদানি পণ্যের দাম বেড়েছে এবং কিছু পণ্যের ঘাটতিও দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে সরকার নতুনভাবে বাজেট পরিকল্পনায় মনোযোগ দিচ্ছে।
ঈদের পর অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রাক-বাজেট আলোচনা শুরু করবেন। তার আগে কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল বৈঠকে মুদ্রা ও বিনিময় হারসহ অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
গত বছরের নভেম্বরের সভায় চলতি অর্থবছরের জন্য ব্যয়সংকোচন নীতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে নতুন সরকার উদার ব্যয়নীতি চালু করার পরিকল্পনা করেছে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা চলাকালীন মধ্যপ্রাচ্যসংকট সরকারকে নতুন চিন্তায় ফেলেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্য, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও এলএনজি আমদানিতে নতুন নীতি নেওয়া হচ্ছে। আগের ব্যয়সংকোচন নীতি অবলম্বন করলে সংকট বাড়তে পারে।
নতুন বাজেট উচ্চতর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ সহায়ক হিসেবে গঠন করা হবে। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৮ লাখ ৪৮ থেকে ৮ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, পরে তা সংশোধন করে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকার নির্ধারণ করা হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে রাজস্ব আদায়ের জন্য কার্যক্রম জোরদার করতে বলা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি পর্যন্ত ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। আইএমএফ রিপোর্ট অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে দেশবেদেশি ঋণ ও সুদ বাবদ চাপ ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে।
সিপিডি মতে, নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের ও জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘বিপর্যস্ত অবস্থার থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো ও গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ বৃদ্ধি জরুরি। নতুন সরকার দ্রুত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক করতে উদ্যোগী হবে।’











