চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিক ও কর্মচারীরা।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ডাকে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মবিরতিতে বন্দরের স্থায়ী কর্মচারী ও বেসরকারি শ্রমিকরা অংশ নেন।
কর্মবিরতির ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্গো বার্থ, চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে পণ্য ওঠানামাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বন্দরের ভেতরে জাহাজের অপারেশনাল কার্যক্রম এখনো স্বাভাবিক রয়েছে এবং নৌ-চ্যানেলে কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দেয়নি।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ারুল আজিম জানান, সকাল থেকে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা কোনো ধরনের কাজ করছেন না। বন্দরের যন্ত্রপাতিও চালু করা হয়নি। তিনি বলেন, শনিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে এবং একই দাবিতে রোববারও একই সময়ে কর্মবিরতি পালন করা হবে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বলেন, সকাল থেকে বন্দরের বিভিন্ন গেটে কিছু লোক অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। তবে বন্দরের ভেতরে জাহাজের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি আরও বলেন, শনিবার প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পণ্য ডেলিভারি স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বিলম্বিত হয়, তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে।
উল্লেখ্য, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার দুই দিনের কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এ কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়েছে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বন্দরে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার বন্দর ভবনের ভেতরেও শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে একটি অফিস আদেশ জারি করে।











