ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে সম্ভাব্য যানজট ও ভোগান্তি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইতিমধ্যে বাস ও ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে এবং ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে ২২টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সড়ক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যথাযথ সমন্বয় ও ধারাবাহিক তদারকি না থাকলে এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখা কঠিন হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার মহাসড়ক এখনো নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ চলমান থাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। মহাসড়ক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে অন্তত ২০৭টি স্থান রয়েছে যেখানে ঈদযাত্রার সময় যানজটের ঝুঁকি বেশি। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১৫৯টি।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় ১৮ মাস সময়কালে সড়ক ও মহাসড়কের অনেক সংস্কারকাজ ঝুলে ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও থমকে যায়। বড় প্রকল্পগুলোর কিছু কাজ বাতিল বা বিলম্বিত হওয়ায় সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এবারের ঈদযাত্রায় তার প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক প্রস্তুতি বৈঠকে জানানো হয়, ঈদের আগে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ রাজধানী ছাড়তে পারে। এত বিপুল মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। এজন্য মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং, অস্থায়ী দোকান এবং ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিকল বা ফিটনেসবিহীন যানবাহন যাতে মহাসড়কে না চলে সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মহাসড়ক পুলিশের তথ্যমতে, ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে সবচেয়ে বেশি ৫৫টি যানজটপ্রবণ স্থান রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রয়েছে ৪৫টি, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৪৩টি, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ২১টি, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ১৪টি এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ১৪টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ৯টি এবং যশোর-খুলনা মহাসড়কে ৬টি স্থান রয়েছে যেখানে যানজটের আশঙ্কা বেশি।
মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়ক বিভাজক ভেঙে যাওয়া, বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়া এবং অসম্পূর্ণ সংস্কারকাজের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। কোথাও কোথাও পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীরা ডিভাইডারের ফাঁক দিয়ে পারাপার করছেন, যা মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক মহাসড়কে খানাখন্দের কারণে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক এতটাই ভাঙাচোরা যে হাঁটা চলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি মহাসড়কে সংস্কারকাজ চললেও তা ধীরগতির হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।
সড়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে হলে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে ফিটনেসবিহীন ছোট যানবাহনের বিশৃঙ্খল চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি দরকার। একই সঙ্গে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য মহাসড়কে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। ঈদের আগে ও পরে যানজটপ্রবণ স্থানগুলো বিশেষভাবে মনিটরিং করা হবে। পাশাপাশি চলমান সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব হয়।











