এই মুহূর্তে কলকাতায় অবস্থান করছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। সেখানে তিনি তার আসন্ন সিনেমা ‘ওসিডি’র প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ছবিটি মুক্তির আগেই বিষয়বস্তু ও প্রস্তুতি নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে জয়া জানান, ‘ওসিডি’ তার অভিনীত অন্যতম প্রিয় কাজ। ছবিটির চরিত্র ও বিষয়বস্তুর গভীরতা বোঝার জন্য তিনি আগেভাগেই বিস্তর গবেষণা করেছেন। বিশেষ করে পিডোফিলিয়া বা শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণ—এই মানসিক ব্যাধি সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে তিনি সময় দিয়েছেন বলে জানান।
জয়া আহসানের ভাষায়, তিনি যে ধরনের চরিত্রে কাজ করেন, তার মানসিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বোঝার চেষ্টা করেন। ‘ওসিডি’ করার সময় বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চর্চা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণ কোন মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ এবং কীভাবে এটি গড়ে ওঠে—এসব না জানলে এমন সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কাজ করা কঠিন।
এ প্রসঙ্গেই উঠে আসে বিশ্বজুড়ে আলোচিত এপস্টেইন ফাইলস। প্রভাবশালী বহু ব্যক্তির নাম জড়িয়ে পড়া এই বিতর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জয়া বলেন, পিডোফিলিয়া একটি গুরুতর মানসিক অসুস্থতা। তার ভাষায়, একটি শিশুকে দেখলে সাধারণ মানুষের মনে স্নেহ ও মায়া জন্মায়, কিন্তু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সেই অনুভূতি বিকৃত হয়ে যৌন আকাঙ্ক্ষায় রূপ নেয়, যা গভীর অসুস্থতার পরিচয়।
তিনি আরও বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য—এত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বাংলা সিনেমায় এখনো তেমনভাবে কাজ হয়নি।
শিশুদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জয়া আহসান বলেন, বর্তমান পৃথিবী শিশুদের জন্য অত্যন্ত অনিরাপদ। তিনি মনে করেন, একটি শিশুকে পৃথিবীতে আনলে তার জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবতায় মানুষ ক্রমেই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক।
সৌকর্য ঘোষাল পরিচালিত সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ‘ওসিডি’ আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।











