ঢাকা-১৭ আসনের এক প্রার্থীর সঙ্গে ঢাকা সেনানিবাসের প্রবেশপথে দায়িত্বরত মিলিটারি পুলিশ সদস্যদের কথোপকথন ভাইরাল হওয়ার পর ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশের নিয়ম-কানুন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বেসামরিক ব্যক্তি লাইসেন্সকৃত ব্যক্তিগত অস্ত্র বা সরকারি গানম্যান নিয়ে সেনানিবাসে প্রবেশ করতে পারেন কি না—এ বিষয়টি ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
সেনা আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সেনানিবাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে দায়িত্বরত মিলিটারি পুলিশের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। কেউ সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করলে—even তিনি যদি সেনা কর্মকর্তা হন—তাকেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
তারা জানান, ক্যান্টনমেন্ট আইন, ২০১৮ এবং সেনা সদরের মিলিটারি অপারেশন্স ডাইরেক্টরেটের নির্দেশনার সমন্বয়ে সেনানিবাস পরিচালিত হয়। এই আইনের আওতায় সেনানিবাস একটি সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে বিবেচিত এবং সেখানে বেসামরিক কোনো ব্যক্তি অস্ত্র বা গানম্যান নিয়ে প্রবেশ করতে পারেন না।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, সেনানিবাসে বেসামরিক মানুষের চলাচল ও বসবাস থাকলেও আইন-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে সেনা আইনই চূড়ান্ত। প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী কোনো অপরাধ সামরিক আইনে বিচার করতে পারে, আবার চাইলে ফৌজদারি আইনের আওতায়ও দিতে পারে।
অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. বায়েজিদ সরোয়ার জানান, ক্যান্টনমেন্ট এলাকার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা আসে মিলিটারি অপারেশন্স ডাইরেক্টরেট থেকে। তাঁর ভাষায়, বেসামরিক যে কারো জন্য নিয়ম একটাই—অস্ত্র নিয়ে কেউ ভেতরে ঢুকতে পারবে না।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সশস্ত্র বাহিনী দিবসসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বা ভিআইপিরা সেনানিবাসে প্রবেশ করলেও তাঁদের গানম্যান ও সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মীরা গেইটেই অপেক্ষা করেন। পুলিশ, আনসার বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, সেনাপ্রধানসহ শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও অন্য বাহিনীর সদর দপ্তরে গেলে অস্ত্র ছাড়া প্রবেশ করেন। মন্ত্রী বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্য ও গানম্যানদেরও গেইটে থাকতে হয়।
তিনি জানান, কেউ যদি অস্ত্রসহ ক্যান্টনমেন্টের ভেতরের রাস্তা ব্যবহার করে অন্যত্র যেতে চান, তাহলে আগেই নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অনুমতি নিতে হয়। তবে সাধারণভাবে সেনানিবাসে প্রবেশের সময় অস্ত্র ও গানম্যান গেইটেই রেখে যেতে হয়—এর কোনো ব্যতিক্রম নেই। এই বিধান কার্যকর করার দায়িত্ব মিলিটারি পুলিশের ওপর ন্যস্ত।











