মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় বাগেরহাটের খান আকরামকে খালাস দিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে বুধবার শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য এ দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এর আগে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিলেন। মামলায় মোট সাতটি অভিযোগ আনা হয়। ২০১৭ সালের ৩১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ২৬ মে বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ থানার চাপড়ী ও তেলিগাতী এলাকায় রাজাকার ও পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যরা নিরীহ ও নিরস্ত্র মুক্তিকামী মানুষের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ৪০ থেকে ৫০টি বাড়িঘর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং ১০ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এছাড়া ১৯৭১ সালের ৭ জুলাই কচুয়া থানার হাজরাখালী ও বৈখালী রামনগর এলাকায় হামলা চালিয়ে চারজনকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। একই বছরের ১৩ নভেম্বর মোড়লগঞ্জ থানার ঢুলিগাতী গ্রামে হামলায় দুই মুক্তিযোদ্ধাকে আটক, নির্যাতন ও হত্যা করা হয়।
১৭ নভেম্বর কচুয়া থানার বিলকুল ও বিছট গ্রামে চারজনকে অপহরণ করে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। ৩০ নভেম্বর নিরস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর আলী নকীবকে আটক করে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়।
এছাড়া ১৬ অক্টোবর উদানখালী গ্রামে হামলা চালিয়ে উকিল উদ্দিন মাঝিকে হত্যা করা হয় এবং তার মেয়েকে অপহরণ করে রাজাকার ক্যাম্পে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। একইভাবে গজালিয়া বাজার এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্রীধাম কর্মকারকে হত্যা এবং তার স্ত্রী কমলা রানী কর্মকারকে অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগও আনা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আপিল বিভাগ এ মামলায় খান আকরামকে খালাস দেন।











