ভালোবাসা দিবস মানেই গোলাপ, হাসি আর মিলনের গল্প—এই চেনা ছকের বাইরে গিয়ে এক ভিন্ন স্বাদের প্রেমকাহিনি নিয়ে আসছে বিশেষ নাটক ‘নীল রেইনকোট’। এটি এমন এক প্রেমের গল্প, যেখানে ভালোবাসা ধরা দেয় অপেক্ষা, স্মৃতি আর নিঃসঙ্গতার ভেতর দিয়ে।
ধানমন্ডির ব্যস্ত শহুরে জীবনের মাঝখানে একটি পুরোনো ফ্ল্যাটে একা থাকেন অর্পিতা। তার জীবন নির্দিষ্ট নিয়মে বাঁধা—শান্ত, নিঃশব্দ। কিন্তু প্রতিদিন বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে সেই ছন্দ ভেঙে যায়। অর্পিতা এসে দাঁড়ান বারান্দায়। কোনো মানুষের অপেক্ষায় নয়, বরং একটি মুহূর্ত, একটি রঙিন স্মৃতির টানে। তার চোখ শহরের ভিড়ে খুঁজে ফেরে একটি পরিচিত অবয়ব—একটি নীল রেইনকোট।
এই অপেক্ষার শুরু হয়েছিল বহু আগে, এক বর্ষণমুখর বিকেলে নীলক্ষেতে। পুরোনো বইয়ের দোকান, কাগজের গন্ধ আর বৃষ্টির শব্দের মাঝে অর্পিতার সঙ্গে দেখা হয় শুভ্রর। রবীন্দ্রনাথের কবিতা নিয়ে আলাপ, এক কাপ চা আর নিঃশব্দ অনুভূতির আদান-প্রদান—অচেনা দুজন মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠে এক অদ্ভুত সংযোগ। বিদায়ের সময় শুভ্র বলে যায়, ‘যদি কোনো দিন ফিরে আসি, নীল রেইনকোট পরেই ফিরব।’ সেই কথাই হয়ে ওঠে অর্পিতার জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা।
শুভ্র চলে যাওয়ার পর অর্পিতার দিনগুলো কাটে স্মৃতি আঁকড়ে ধরে। চায়ের দোকানের খালি চেয়ার, বৃষ্টির দিনে রাস্তায় দেখা যাওয়া অচেনা নীল রেইনকোট—সবকিছুতেই সে খুঁজে ফেরে শুভ্রকে। নাটকের এক আবেগঘন দৃশ্যে দেখা যায়, রাস্তায় নীল রেইনকোট পরা এক পথচারীকে দেখে হঠাৎ দৌড়ে যায় অর্পিতা, চিৎকার করে ডাকে—‘শুভ্র!’ কিন্তু সেই ডাক কি সত্যিই কারও কাছে পৌঁছায়, নাকি তা শুধুই এক অসমাপ্ত ভালোবাসার আর্তনাদ—সেটাই গল্পের মূল আবহ।
এই বিষাদমাখা প্রেমের গল্প নিয়ে নাটকটি নির্মাণ করেছেন সময়ের আলোচিত নির্মাতা রুবেল আনুশ। তানভীর হাসানের গল্পে নির্মিত এই নাটকে শুভ্র চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাদ নাওভি এবং অর্পিতা চরিত্রে দেখা যাবে জিমকে। এটি এই জুটির প্রথম একসঙ্গে কাজ।
নাটকটি নিয়ে পরিচালক রুবেল আনুশ বলেন, ভালোবাসা দিবস শুধু আনন্দের গল্পে সীমাবদ্ধ নয়—অপেক্ষা ও বিচ্ছেদও ভালোবাসার গভীর রূপ। সেই ভাবনা থেকেই ‘নীল রেইনকোট’ নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রযোজক আকবর হায়দার মুন্না জানান, ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে বিশেষ এই নাটকটি আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ‘ক্লাব ইলেভেন এন্টারটেইনমেন্ট’-এর ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে। নাটকটিতে আরও অভিনয় করেছেন দিশা রহমান, আনোয়ার আজপুর, আব্রাহাম তামিম, সিদ্ধাত্য ও আনোয়ার।
বৃষ্টি, বই, গান আর দীর্ঘ অপেক্ষার আবহে তৈরি ‘নীল রেইনকোট’ দর্শকদের হৃদয়ে কতটা নাড়া দিতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।











