জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘যারা বছরের পর বছর দেশের বাইরে ছিল, তারাই এখন আমাদের গুপ্ত ও সুপ্ত বলছে। অথচ দেশের মানুষ গত ১৭ বছর তাদের কোথাও দেখেনি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কারাগারে ছিলাম, গুম-খুনের শিকার হয়েছি। কারাগারে থাকলে যদি কেউ গুপ্ত হয়, তাহলে আমরাই গুপ্ত ছিলাম।’
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর গ্রিন রোড সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার মাঠে ঢাকা-১০ আসন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি কিংবা আমার কোনো কর্মী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাইনি। ৫ আগস্টের বিপ্লব না হলে যাদের এ জাতি চোখে দেখত না, তারাই আজ আমাদের গুপ্ত বলছে। অথচ আমরা শত জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেও জনগণের পাশেই ছিলাম, আছি এবং থাকব ইনশা আল্লাহ।’
তিনি শহীদ মীর কাসেম আলীর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘আমাদের নেতা শহীদ মীর কাসেম আলী আমেরিকা থেকে দেশে ফিরেছিলেন। তাঁকে অনেকে অনুরোধ করেছিলেন দেশে না আসতে। বলা হয়েছিল, এলে জেল বা ফাঁসির মুখোমুখি হতে হতে পারে। কিন্তু তিনি বলেছিলেন—আমি কোনো অপরাধ করিনি, জেলে যেতে ভয় নেই।’ ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিনি দেশে ফিরে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হন এবং বিচারের নামে অবিচারের শিকার হয়ে ফাঁসির মঞ্চে গিয়েও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি কিংবা আধিপত্যবাদের সঙ্গে আপস করেননি।’
এদিকে কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, একই দিন বেলা পৌনে ১২টার দিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত আরেক নির্বাচনি জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, ‘বিগত সময়ে শত অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেও আমরা দেশ ছাড়িনি। আমরা ছিলাম, আমরা আছি, আমরা থাকব ইনশা আল্লাহ।’ তিনি বলেন, ‘আমরা মজলুম ছিলাম, তাই মজলুমের দুঃখ বুঝি। এজন্য আমরা কখনো জালিম হব না।’
মা-বোনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি কোনো মা-বোনের গায়ে হাত দেওয়া হয়, তাহলে আমরা চুপ করে থাকব না। যেখানে এমন ঘটনা ঘটবে, সেখানেই সাহসী যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে—যেভাবে জুলাইয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল।’ তিনি অভিযোগ করেন, যারা একদিকে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখাচ্ছে, অন্যদিকে তারাই মায়েদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমি জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমি ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আমি ভোট চাইতে আসিনি, এসেছি মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও সমস্যার কথা শুনতে।’ জামায়াত ক্ষমতায় গেলে মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘মানুষকে গোলামির হাত থেকে মুক্ত করে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।’
যুবসমাজ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘যুবকরা বেকার ভাতা চায়নি, তারা চেয়েছে ন্যায়বিচার ও অধিকার।’ তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর যুবসমাজ নিয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও কর্মসূচি রয়েছে। ক্ষমতায় গেলে যুবকদের দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চামড়াশিল্প নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের পরামর্শে এ শিল্প পুনরুজ্জীবিত করা হবে।’ তিনি বলেন, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে ঢাকা-১০ আসনের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান সম্ভব।
জনসভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। সভায় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।











