অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য ধীরে ধীরে প্রকাশিত হচ্ছে। শুধু ব্যক্তিগত লেনদেন নয়, ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় উপদেষ্টাদের সুপারিশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য মিলেছে।
দুদক সূত্র জানায়, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসসহ প্রায় সব উপদেষ্টার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ফাওজুল কবির খান, আসিফ মাহমুদ, আদিলুর রহমান খান ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরীর ক্ষেত্রে। এই তদন্তের মধ্যে রয়েছে মানি লন্ডারিং ও অর্থ পাচারের বিষয়।
দুর্নীতির সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও যুব-ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। তার একান্ত সহকারী মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এত বেশি ছিল যে তাকে বরখাস্ত করতে হয়েছিল। এনবিআরের আয়কর তথ্য অনুযায়ী, এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের গাড়িচালকের ভাই ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার আয়কর রিটার্ন দেখান, যা তার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে সাবেক এই ছাত্র উপদেষ্টাদের সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও। ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক এজাজ, নাহিদ ইসলামের এপিএসের মাধ্যমে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এ অনিয়ম এবং মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধে টেলিভিশন লাইসেন্স প্রদানে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ জমা পড়েছে।
টিআইবি বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, এবং প্রাথমিক তথ্য আমলযোগ্য হলে তা তদন্তের আওতায় আনা জরুরি।











