প্রায় দুই দশক পর লন্ডন থেকে দেশে ফেরার মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান—ঠিক যেমন একসময় দেশ শাসন করেছিলেন তার বাবা-মা।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনমত জরিপের পূর্বাভাস যদি সত্যি হয়, তবে বৃহস্পতিবারের নির্বাচন ৬০ বছর বয়সী এই শান্তস্বভাব নেতার জন্য হবে এক বিস্ময়কর প্রত্যাবর্তন। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সপরিবারে লন্ডন গিয়েছিলেন তিনি।
গত বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন তার দল বিএনপির দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ হাসিনা। ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে তারেক রহমান বীরোচিত সংবর্ধনা পান।
তিনি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব পুনর্গঠনের মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন, কিন্তু কোনো একক শক্তির ওপর দেশ নির্ভরশীল না হবে। দরিদ্র পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির পাশাপাশি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খেলনা ও চামড়াজাত পণ্যে জোর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দুই মেয়াদে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সীমা প্রস্তাব করেছেন।
ঢাকায় ফেরার পর তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রতিটি মিনিট কীভাবে কেটেছে, আমি নিজেও জানি না।’
জন্ম ২০ নভেম্বর ১৯৬৫, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও তা শেষ করেননি। পরে বস্ত্র ও কৃষিভিত্তিক ব্যবসায় যুক্ত হন। দেশে ফেরার পর তিনি সংযমী ও পরিমিত ভাষায় কথা বলছেন, উসকানিমূলক বক্তব্য এড়াচ্ছেন এবং সংযম ও সমঝোতার আহ্বান জানাচ্ছেন।
শেখ হাসিনার শাসনামলে তিনি একাধিক দুর্নীতি মামলার লক্ষ্যবস্তু হন এবং অনুপস্থিতিতেই কিছু মামলায় দণ্ডিত হন। ২০০৪ সালে শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় ২০১৮ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা পরে খালাস পান।
দেশে ফিরে সংযম ও সংযমী রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছেন। জনগণের ওপর রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে আনা, প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন ও গণতন্ত্র চর্চা তার প্রধান লক্ষ্য।
তারেক রহমানের পরিবারের সাইবেরিয়ান জাতের বিড়াল ‘জেবু’ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তার মেয়ে জায়মা রহমান বলেন, ‘ওর বয়স সাত বছর, এবং সে আধা সাইবেরিয়ান।’
দলের ভেতরে তারেক রহমানের নিয়ন্ত্রণ দৃঢ়। প্রার্থী নির্বাচন, কৌশল নির্ধারণ ও জোট আলোচনা—all তিনি সরাসরি তদারকি করছেন। তার ভাষায়, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও তা টিকিয়ে রাখা সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র থাকলে আমরা সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারব এবং দেশ পুনর্গঠন করতে পারব।











