বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশকে একটি বিনিয়োগবান্ধব রাষ্ট্রে রূপান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বিএনপি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে বিএনপি আয়োজিত ‘অগ্রাধিকারভিত্তিক সামাজিক নীতিমালা বিষয়ে নীতিগত কর্মসূচি’ উপস্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। অনুষ্ঠানে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ পেলে বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হবে। একটি স্থিতিশীল, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশে ‘অলিগার্ক’ বা প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর দাপট তৈরি হয়েছিল। এই চক্র ব্যাংকিং খাতসহ অর্থনীতির প্রায় সব ক্ষেত্রে লুটপাট চালিয়েছে। এর ফলে দেশের আর্থিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগে মারাত্মক ধস নামে।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে সুশাসন, আইনের শাসন ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় বিএনপি। দলটি বিশ্বাস করে—বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
বিদেশি কূটনীতিক ও বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি ও হয়রানি মুক্ত একটি বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যেন নিরাপদ ও নির্ভয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব কাঠামোগত সংস্কার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্ব তারুণ্যনির্ভর ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি একটি আধুনিক ও ভবিষ্যতমুখী অর্থনৈতিক রূপরেখা প্রণয়ন করেছে। এই রূপরেখা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ এশিয়ায় অর্থনৈতিক সাফল্যের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।











