ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এসময় তিনি জানান, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
ভোটগ্রহণ শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলসমূহের দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম এবং নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব—এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই প্রমাণ করেছে যে গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট। জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমি নির্বাচন কমিশন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমকর্মী এবং ভোটগ্রহণে সম্পৃক্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। তাদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলেই এই বিশাল গণতান্ত্রিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”
প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান—চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পরও গণতান্ত্রিক শালীনতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট রাখতে। তিনি বলেন, “মতের ভিন্নতা থাকবেই, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বাংলাদেশ আবারও প্রমাণ করেছে—জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। আমরা সম্মিলিতভাবে একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে যাব।”
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ছিল। এই ধারা ধরে রাখা সম্ভব হলে আমাদের গণতন্ত্র উৎকর্ষের শিখরে পৌঁছাবে। আসুন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার এই অভিযাত্রায় আমরা একসঙ্গে কাজ করি।”
সারা দেশের বেশ কিছু কেন্দ্রে ছোটখাটো সহিংসতার মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩৬,০৩১টি কেন্দ্রে মোট ভোট পড়েছে ৪৭.৯১ শতাংশ। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এই তথ্য জানান। এর আগে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩২,৭৮৯টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছিল ৩২.৮৮ শতাংশ।











