দেশের বর্তমান চাকরির বাজারের নড়বড়ে পরিস্থিতি এবং শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাজিয়া হক অর্ষা। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম—বিশেষ করে টিকটকের দিকে ঝুঁকে পড়াকে তিনি স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন।
সম্প্রতি একটি শুটিং সেটে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্ষা বলেন, যে দেশে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পরও চাকরি পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা থাকে, সেখানে তরুণরা টিকটক বা অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আয় করার চেষ্টা করলে সেটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। তার ভাষায়, “এমন বাস্তবতায় বাচ্চারা যদি টিকটক করে ডলার কামায়, সেটাই তো স্বাভাবিক।”
টিকটক বা ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরিকে নেতিবাচকভাবে দেখার পক্ষপাতী নন এই অভিনেত্রী। বরং যারা এসব প্ল্যাটফর্ম কাজে লাগিয়ে আয় করছেন, তাদের তিনি স্মার্ট ও উদ্যোগী হিসেবে দেখেন। অর্ষার মতে, “আমি যদি শুধু অন্যকে নকল করেও ডলার আয় করতে পারি, তাহলে কেন করব না?”
তিনি আরও বলেন, তার চারপাশের অনেক ছোট বয়সী তরুণ এখন বই বা সিনেমার চেয়ে মোবাইল গেমস ও টিকটকে বেশি সময় দিচ্ছে। পড়ালেখার প্রতি এই অনাগ্রহ ভাবনার বিষয় হলেও বাস্তবতা হলো—অনেকে অল্প বয়সেই ডিজিটাল মাধ্যমে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে, দেশ-বিদেশে ঘুরছে এবং নিজের জীবন গুছিয়ে নিচ্ছে।
অন্যদিকে শিক্ষিত বেকারদের দুর্দশা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন অর্ষা। তিনি বলেন, প্রায়ই খবরে দেখা যায়—মাস্টার্স পাস করেও অনেকে জীবিকার তাগিদে চা বা ফুসকার দোকানে কাজ করছেন। কাজ ছোট নয়, তবে একজন তরুণ তার জীবনের দীর্ঘ সময় পড়াশোনায় বিনিয়োগ করার পর যদি এমন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়, সেটি নিঃসন্দেহে হতাশাজনক।
অর্ষার মতে, উচ্চশিক্ষিত হয়েও বেকার থাকার চেয়ে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ। ভবিষ্যতে শিক্ষিত বেকারত্ব দেশের জন্য বড় দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠতে পারে বলেও তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।











