পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অকারণে হর্ন বাজানো বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘অকারণে হর্ন বাজানো আমাদের একটি বদ-অভ্যাস। এই অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।’
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিমানবন্দর এলাকায় ‘ঘোষিত নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো নিরুৎসাহিতকরণ কর্মসূচি’ বাস্তবায়নে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), বিআরটিএ, ডিএনসিসি ও সিভিল এভিয়েশনের সমন্বয়ে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
উপদেষ্টা বলেন, ‘শব্দদূষণ কমানোর দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, আমাদের সবার। অন্য কোনো আইন ভাঙলে যেভাবে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়, একইভাবে হর্ন বাজানোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।’ তিনি জানান, শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এর বাস্তবায়নে পুলিশকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে হর্ন ব্যবহারের ওপর কঠোর নজর দেওয়া হচ্ছে। কোনো অজুহাতেই ঘোষিত নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো যাবে না। বিমানবন্দর এলাকা হর্নমুক্ত করে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের কথাও জানান তিনি।
উপদেষ্টা জানান, উচ্চ শব্দের কারণে ঢাকা শহরের প্রায় ৬৫ শতাংশ চালকের শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্কুলগামী শিশুদের জন্য হর্নের শব্দ অত্যন্ত অস্বস্তিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতিগতভাবে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীদেরও জনসচেতনতা তৈরিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে উপস্থিত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রণীত বিধিমালা বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সারোয়ার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।











