ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে তিনি কেবল নিজের নির্বাচনী আসনেই সীমাবদ্ধ নন; কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানেই সাধারণ ভোটারদের উষ্ণ অভ্যর্থনা ও ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন তিনি। জনসভা ও পথসভাগুলো মুহূর্তেই জনসমুদ্রে পরিণত হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস ও অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে কক্সবাজার জেলার চারটি আসনেই সালাহউদ্দিন আহমদের রয়েছে তুমুল জনপ্রিয়তা। জাতীয় পর্যায়ের নেতা হওয়ার পাশাপাশি পুরো জেলায় গ্রহণযোগ্যতার কারণে তিনি শুধু নিজের আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং দলের অন্যান্য প্রার্থীদের পক্ষে জেলার বাকি তিনটি আসনেও সরাসরি মাঠে নেমেছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের উখিয়া উপজেলার কোট বাজারে বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর নির্বাচনী জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
পরবর্তীতে ৬ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার-৩ (কক্সবাজার সদর, রামু ও ঈদগাহ) আসনের কক্সবাজার শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে বিএনপির প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলের নির্বাচনী জনসভা এবং ৭ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের মহেশখালীর নতুন বাজার মাঠে আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদের নির্বাচনী জনসভায়ও প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি।
প্রতিটি জনসভায় সালাহউদ্দিন আহমদ সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর দীর্ঘদিনের সমস্যা তুলে ধরেন এবং বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হলে সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, মানবাধিকার এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
এসব জনসভায় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রতিটি জনসভাই বিপুল জনসমাগমে জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
ছাত্রদল নেতা নাজমুল শাহেদ বলেন, তরুণ ভোটারদের মধ্যে সালাহউদ্দিন আহমদের জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সংগ্রামী জীবন এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্পষ্ট রূপরেখা তরুণ সমাজকে আকৃষ্ট করছে। শিক্ষিত ও সচেতন তরুণ ভোটাররা ধানের শীষ প্রতীককে ঘিরে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।
জেলা বিএনপির নেতা ইউসুফ বদরী বলেন, দলের কেন্দ্রীয় নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের ইমেজকে কাজে লাগিয়ে কক্সবাজার জেলার চারটি আসনেই বিজয় নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর মতে, সালাহউদ্দিন আহমদ কেবল কক্সবাজারের নেতা নন, তিনি গোটা দেশের নেতা।
এদিকে, চকরিয়া উপজেলার বদরখালী সমবায় কৃষি উপনিবেশ সমিতির সভাপতি সরোয়ার আলম সিকদার বলেন, এলাকার উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সালাহউদ্দিন আহমদের বিকল্প নেই। তাঁর চিন্তা-চেতনা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কারণে তিনি যেখানে যাচ্ছেন, সেখানেই মানুষের ঢল নামছে।











