প্রচার শুরুর পর হঠাৎ মাঠ ছাড়ায় টাঙ্গাইল-১ আসনে ক্ষোভ ও হতাশায় ভুগছেন নেতাকর্মীরা।
টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী। প্রতীক পাওয়ার মাত্র দুদিনের মাথায় তার এমন সিদ্ধান্তে এলাকায় তার কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. মোহাম্মদ আলী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক এবং জিয়া পরিষদের ডিরেক্টর পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন।
একাধিক সূত্রের দাবি, দলীয় প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পরই মোহাম্মদ আলী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ঢাকাসহ টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় একাধিক বৈঠকের পর শুক্রবার সকালে আনোয়ার হোসেনের বাসায় চূড়ান্ত আলোচনা হয়।
এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অ্যাড. মোহাম্মদ আলীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর খবরে ভেঙে পড়েছেন তার কর্মী ও সমর্থকেরা। মধুপুর উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের লাল মিয়া বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে পরিবার-পরিজন ছেড়ে নিজের অর্থ ব্যয় করে মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে রাজনীতি করেছেন তিনি। প্রতীক পাওয়ার পর দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত প্রচারণা চালানোর পর হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
ধনবাড়ী ও মধুপুরের বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদ আলীকে ঘিরে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছিল। হঠাৎ নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ায় তারা রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা হারিয়ে ফেলেছেন। অনেকেই বলেন, আদর্শের রাজনীতির কথা ভেবে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে ছিলেন, এখন কী করবেন বুঝতে পারছেন না।
ঘটনার পর মধুপুর আদালতপাড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রধান সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেনের বাসায় নেতাকর্মীদের ভিড় জমে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং মোহাম্মদ আলীকে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
মধুপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন খান বাবলু বলেন, মোহাম্মদ আলী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও বিষয়টি নিয়ে দলীয় পর্যায়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতো বলে মন্তব্য করেন।











