২০২৬ সালে নির্মাতা, এআই ও টিভি অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে নতুন একগুচ্ছ উদ্যোগ চালু করতে যাচ্ছে ইউটিউব।
নতুন বছরে নতুন কিছু উদ্যোগ নিচ্ছে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব। ২০২৬ সালে পণ্য, নীতিমালা ও আয়ের (মনিটাইজেশন) ক্ষেত্রে একাধিক নতুন উদ্যোগ চালু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বার্ষিক চিঠিতে ইউটিউবের অগ্রাধিকার তুলে ধরে প্ল্যাটফর্মটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিল মোহন বলেন, নির্মাতা (ক্রিয়েটর), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং টেলিভিশনের মতো অভিজ্ঞতার ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
ইউটিউবকে ‘সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে উল্লেখ করে নিল মোহন বলেন, ভিডিও নির্মাতারাই এখন নতুন তারকা ও স্টুডিও—যারা বিভিন্ন পর্দা ও ফরম্যাটে বিনোদনের সংজ্ঞা নতুনভাবে গড়ে তুলছেন। তিনি বলেন, “এই কনটেন্টকে শুধু ‘ইউজার-জেনারেটেড কনটেন্ট’ বলে খাটো করে দেখার যুগ অনেক আগেই শেষ হয়েছে।”
মোহন জানান, ইউটিউব শর্টস বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন ২০০ বিলিয়ন ভিউ পাচ্ছে। ব্যবহারকারীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে শর্টস ফিডে ছবি পোস্টসহ নতুন ফরম্যাট যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি সংগীত আবিষ্কার এবং নতুন শিল্পী ও রিলিজ ঘিরে গল্প বলার বিষয়টি ২০২৬ সালেও অগ্রাধিকার পাবে।
টেলিভিশনের বিকল্প হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে ইউটিউব নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে। দর্শক পরিমাপক সংস্থা নিলসেনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে স্ট্রিমিং দেখার সময়ের হিসাবে ইউটিউবই শীর্ষে রয়েছে। শিগগিরই কাস্টমাইজযোগ্য মাল্টিভিউ ফিচার এবং খেলাধুলা, বিনোদন ও সংবাদভিত্তিক ১০টির বেশি ইউটিউব টিভি সাবস্ক্রিপশন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তরুণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় নতুন ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অভিভাবকরা শিগগিরই শিশু ও কিশোরদের শর্টস দেখার সময় সীমিত বা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে পারবেন—যাকে ইউটিউব শিল্পে প্রথম উদ্যোগ হিসেবে দাবি করা হচ্ছে।
মনিটাইজেশন প্রসঙ্গে ইউটিউব জানায়, গত চার বছরে নির্মাতা, শিল্পী ও মিডিয়া প্রতিষ্ঠানকে তারা ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি পরিশোধ করেছে। শুধু ২০২৪ সালেই ইউটিউব ইকোসিস্টেম যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপিতে ৫৫ বিলিয়ন ডলার অবদান রেখেছে এবং প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার পূর্ণকালীন চাকরি সৃষ্টি করেছে।
২০২৬ সালে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান নিল মোহন। তিনি বলেন, এআই হবে সৃজনশীলতার সহায়ক মাধ্যম, কোনো বিকল্প নয়। একই সঙ্গে ডিপফেক ও নিম্নমানের এআই কনটেন্ট ঠেকাতে লেবেলিং ও কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হবে।











