চীনের নৌবাহিনী (PLAN) তাদের সর্বাধুনিক তৃতীয় বিমানবাহক জাহাজ ‘ফুজিয়ান’ আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে যোগদান করেছে। এটি চীনের নিজস্ব ডিজাইন ও নির্মাণকৃত প্রথম বিমানবাহক, যা দেশটির নৌ শক্তিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।
অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং উপস্থিত ছিলেন এবং জাহাজটি পরিদর্শন করেছেন। PLAN জানিয়েছে, ‘ফুজিয়ান’-এর মাধ্যমে চীন তার নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা শুধু উপকূলীয় সীমার মধ্যে নয়, বরং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সম্প্রসারিত করতে পারবে।
⸻
প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য
• ‘ফুজিয়ান’-এ ব্যবহৃত হয়েছে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট (EMALS) প্রযুক্তি, যা যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারকে দ্রুত উৎক্ষেপণের সুবিধা দেবে।
• এটি ৮০,০০০ টনের বেশি ওজনের এবং আধুনিক যুদ্ধবিমান বহন করতে সক্ষম।
• চীনের আগের বিমানবাহক ‘লাইয়োনিং’ এবং ‘শানডং’-এর তুলনায় এটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত, যা নৌবাহিনীর স্বনির্ভরতা বাড়ায়।
⸻
বিশ্লেষক মন্তব্য
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদিও ‘ফুজিয়ান’ একটি প্রযুক্তিগত লাফ, এটি নিউক্লিয়ার শক্তি চালিত নয়, তাই দীর্ঘ সময়ের দূরবর্তী অভিযান সীমিত হতে পারে। তবে এটি চীনের সামরিক কৌশলকে প্রশস্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ চীনের উচ্চ-সমুদ্র অঞ্চলে ক্ষমতা প্রদর্শনের অংশ, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য সামরিক ও কৌশলগত প্রভাব ফেলতে পারে।
⸻
বিশেষ দ্রষ্টব্য
চীনের এই পদক্ষেপের ফলে এখন PLAN-এর তিনটি বিমানবাহক রয়েছে। এটি প্রতিপক্ষ দেশের চোখে চীনের সামরিক সক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবেও ধরা হচ্ছে।
“ফুজিয়ান”-এর যোগদানে চীনের নৌ শক্তি একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যা স্থানীয় এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।











