রাজনীতি নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দেওয়া থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থানে রয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী সিডনি সুইনি। যত চাপই আসুক না কেন, রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করার কোনো পরিকল্পনা নেই—এ কথা স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছেন ‘হোয়াইট লোটাস’ ও ‘দ্য হাউসমেইড’ খ্যাত এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি জনপ্রিয় সাময়িকী কসমোপলিটন-এর প্রচ্ছদে জায়গা করে নেওয়ার পর দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ২৮ বছর বয়সী সিডনি বলেন, “আমি শিল্পের মানুষ। আমি এখানে রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে আসিনি। এটা এমন কোনো ক্ষেত্র নয়, যেখানে নিজেকে কখনো কল্পনাও করিনি।” তিনি আরও জানান, তিনি যে মানুষটি হয়ে উঠেছেন, তার পেছনে রাজনীতির কোনো ভূমিকা নেই।
সিডনি সুইনি বলেন, তাঁর পুরো মনোযোগ অভিনয় ও সৃজনশীল কাজের দিকেই। তাঁর ভাষায়, “আমি অভিনেত্রী হয়েছি কারণ আমি গল্প বলতে ভালোবাসি। আমি কোনো ধরনের ঘৃণায় বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি—মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সম্মান ও বোঝাপড়ার জায়গা তৈরি হওয়া উচিত।”
তবে রাজনীতি নিয়ে নীরব থাকার সিদ্ধান্তই যে উল্টো তাঁকে সমালোচনার মুখে ফেলছে, সেটাও স্বীকার করেছেন তিনি। অভিনেত্রীর মতে, এই নীরবতাকে কেন্দ্র করেই অনেক সময় মানুষ তাঁকে নিজেদের মতাদর্শের ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, যা তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
ধারণা করা হচ্ছে, গত বছর মার্কিন পোশাক ব্র্যান্ড আমেরিকান ঈগল-এর একটি বিজ্ঞাপন প্রচারণাকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের পর থেকেই কাজের বাইরে কোনো বিতর্কিত বিষয়ে মুখ খুলতে অনীহা প্রকাশ করছেন সিডনি সুইনি।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, অন্যের বিশ্বাস বা মতামত জোর করে নিজের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অত্যন্ত অস্বস্তিকর। “যখন মানুষ আপনাকে বলে দেয় আপনি কী বিশ্বাস করেন বা কী ভাবেন—বিশেষ করে যখন সেটা আপনার সঙ্গে মেলে না—তখন সেটি ভীষণ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে,” বলেন তিনি।
এর আগে গত ডিসেম্বরে পিপল সাময়িকীতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পুরো পরিস্থিতিকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন অভিনেত্রী। সেই অভিজ্ঞতাই নাকি তাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।











