চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের করা চুক্তিকে বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে নিউমুরিং টার্মিনাল সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের শুনানিতে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ ভিন্নমত প্রদান করেন। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বিচারপতি ফাতেমা নজীব প্রক্রিয়াটিকে অবৈধ ঘোষণা করলেও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রুল খারিজ করে দেন। দ্বৈত বেঞ্চের এই মতবিরোধের কারণে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চে পাঠান। ওই বেঞ্চে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) শুনানি শেষে রায়ের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করা হয়। শুনানি শেষে আদালত সরকারের পক্ষে দেওয়া যুক্তিকে গ্রহণ করে চুক্তির বৈধতা বহাল রাখেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হাসান হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ৩০ জুলাই হাইকোর্ট রুল জারি করেন।
রুলে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ আইন অনুসরণ না করে দেশীয় অপারেটরদের সুযোগ না দিয়ে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করার প্রক্রিয়া কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বানের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও রুল জারি করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির বৈধতা নিয়েই এই রিট আবেদন করা হয়েছিল।











