খাতায়-কলমে আলাদা হওয়ার জল্পনায় অবশেষে সিলমোহর পড়ল। অভিনেতা যিশু সেনগুপ্তের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হওয়ার ইঙ্গিত দিলেন নীলাঞ্জনা শর্মা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টেই নিজের জীবনের নতুন অধ্যায়ের কথা তুলে ধরেছেন প্রাক্তন অভিনেত্রী ও বর্তমান প্রযোজক।
ইনস্টাগ্রামে নীলাঞ্জনা লেখেন, কখনও কখনও কোনও সম্পর্ক শেষ হয় তার অর্থ ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে নয়, বরং সেই সম্পর্ক আর নতুন করে কিছু দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না বলেই। একটি অধ্যায় শেষ হওয়ার মুহূর্তে তাঁর অনুভূতিতে রয়েছে কৃতজ্ঞতা, স্বচ্ছতা আর আত্মসম্মানের বোধ।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এমন এক সময়ের কথা যখন নিজেকে ঠিকভাবে চিনতেন না, তখন যে মানুষটি তাঁকে মর্যাদা, স্বাধীনতা ও আত্মসম্মান বজায় রাখতে শিখিয়েছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। সেই আত্মসম্মান আজ তাঁর কাছে ‘নন-নেগোশিয়েবল’ হয়ে উঠেছে বলেও স্পষ্ট করে দেন নীলাঞ্জনা। পোস্টের শেষাংশে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য—এই শেষ তাঁকে ভেঙে দেয়নি, বরং সাহস, আত্মবিশ্বাস আর মানসিক স্বচ্ছতা এনে দিয়েছে।
গত বছর থেকেই টালিউডে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, নীলাঞ্জনা শর্মা ও যিশু সেনগুপ্ত আর একসঙ্গে থাকছেন না। বিভিন্ন সূত্রের দাবি ছিল, তাঁদের মেয়েরাও বাবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন না এবং মায়ের পাশেই দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন। এই দূরত্বের নেপথ্যে একসময় অভিনেতার এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর নামও উঠে এসেছিল, যদিও বিষয়টি নিয়ে দু’জনের কেউই প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।
নীলাঞ্জনার এই পোস্টের পর টালিউডে আলোচনার ঝড় ওঠে। পোস্টে মন্তব্য করেন অভিনেত্রী বরখা বিস্ত সেনগুপ্ত। তিনি লেখেন, নীলাঞ্জনার অনুভূতি তিনি সম্পূর্ণভাবে বুঝতে পারছেন এবং ঈশ্বরের কাছে তাঁর শক্তি কামনা করেন।
উল্লেখ্য, যিশু সেনগুপ্তকে দর্শক শেষবার সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখেছেন। পাশাপাশি তিনি অভিনেতা সৌরভ দাসের সঙ্গে যৌথভাবে নতুন প্রযোজনা সংস্থা গড়েছেন। অন্যদিকে নীলাঞ্জনা শর্মা তাঁর প্রযোজনা সংস্থা ‘নিনি চিনিস মাম্মা’-র ব্যানারে একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিক প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হলেও, পেশাগত দিক থেকে দু’জনেই নিজেদের কাজে সক্রিয় থাকছেন।











