বসন্তের মনোরম আবহাওয়ার মাঝেও মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন রংপুর নগরীর বাসিন্দারা। নগরীর প্রাণকেন্দ্র দিয়ে প্রবাহিত শ্যামাসুন্দরী খাল ও কেডি খালকে ঘিরে মশার বংশবিস্তার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দুর্ভোগ বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে খাল দুটি পরিষ্কার না করায় পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে স্থির পানিতে মশা জন্মানোর আদর্শ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিকেল নামলেই ঝাঁকে ঝাঁকে মশা ঘরে ঢুকে পড়ছে। অনেক এলাকায় কয়েল ও স্প্রে ব্যবহার করেও মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় শ্যামাসুন্দরী খালটি ঘাঘট নদী থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা অতিক্রম করে মাহিগঞ্জের মরা ঘাঘটের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে খালটি নাব্যতা হারিয়ে এখন মশার বংশবিস্তার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। কেডি খালসংলগ্ন বাসিন্দারাও একই অভিযোগ করে বলেন, খাল, ড্রেন ও জলাশয় নিয়মিত পরিষ্কার না করায় পুরো নগরীতেই মশার বিস্তার ঘটছে। এতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
মশার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও ব্যাঘাত ঘটছে। অনেকেই মশারি টাঙিয়ে পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছে। বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার পর জানালা খোলা রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে, কারণ দীর্ঘ সময় কয়েল ব্যবহারে শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. জাকির হোসেন বলেন, মশার কয়েল ব্যবহারে শিশুদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই মশারি ব্যবহারের পাশাপাশি বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি ও আবর্জনা পরিষ্কার রাখা জরুরি।
এ বিষয়ে রংপুর সিটি করপোরেশন-এর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার প্রধান মিজানুর রহমান মিজু জানান, মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০ হাজার লিটার ওষুধ কেনা হয়েছে এবং ৮০টি নতুন ফগার মেশিন ও ৬৬টি হ্যান্ড স্প্রে মেশিন সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, রমজানের কারণে পূর্ণমাত্রায় অভিযান শুরু করা না গেলেও পর্যায়ক্রমে নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তবে নগরবাসীর দাবি, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হোক। অন্যথায় মশার এই উপদ্রব জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিতে পারে।











