২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম মুখ ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির মেজ ভাই শরীফ ওমর বিন হাদি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে নিয়োগ পেয়েছেন। তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এই নিয়োগ দেওয়া হলেও এখনো তিনি সেখানে যোগদান করেননি।
যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আগে শহীদ হাদির একমাত্র সন্তান ফিরনাস ইবনে ওসমান হাদিকে সঙ্গে নিতে চান শরীফ ওমর বিন হাদি। তবে এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন শহীদ হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলাদা আলাদা পোস্টে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন তারা, যা ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শরীফ ওমর বিন হাদি তার পোস্টে ছোট ভাই শহীদ হাদির একটি ছবি শেয়ার করে লেখেন, “ভাই তোমরা হাদির যা ছিল সব নিয়ে নাও। এমনকি তার বউকেও নিয়ে নাও, শুধু আমার সন্তানটা আমাকে দিয়ে দাও প্লিজ। নিরাপদ বসবাসের জন্য তাকে নিয়ে আমি যুক্তরাজ্যে চলে যাবো।”
এর জবাবে রাবেয়া ইসলাম শম্পা ওই পোস্টটি শেয়ার করে লেখেন, “মেজ ভাইয়া, ওসমান হাদির বউ কোনো প্রোডাক্ট না যে কেউ চাইলেই নিয়ে নেবে। আর ফিরনাসকে সবাই নিতে চাইবে—এটাই স্বাভাবিক। বাই দ্য ওয়ে, ফিরনাসের বাবা একজনই, তিনি শহীদ ওসমান হাদি।”
পরিবারের এই মতবিরোধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানামুখী প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বিষয়টিকে পারিবারিক ও আইনি কাঠামোর মধ্যে সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ সন্তানের সর্বোত্তম স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার জনস্বার্থে জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শরীফ ওমর বিন হাদিকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়। এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়ে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি। ২০ ডিসেম্বর তার জানাজায় লাখো মানুষ অংশ নেন।











