রাজনীতিবিদরা যদি সত্য বলেন, তাহলে বোধ হয় রাজনীতিতে সফল হতে পারেন না। পবিত্র ধর্মগ্রন্থাদি স্পর্শ করেও সমাজে অবলীলায় মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান প্রতিষ্ঠিত সত্যে পরিণত হয়। দেশের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা শপথের মাধ্যমে দেশের সংবিধানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। শপথের মূল বক্তব্য হচ্ছে, ভীতি, অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হয়ে সবার প্রতি আইন অনুযায়ী আচরণ করা।
দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, অনেকেই শপথকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা মনে করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি প্রায় দুই দশক পর সরকার গঠনের সুযোগ পায়। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করে সরকারি দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।
জুলাই আন্দোলনের সাফল্য ১৫ বছর ধরে চলা স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটায়। আন্দোলনে জয়ীরা ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করে সংবিধান সংস্কারের জন্য রক্ষাকবচ তৈরি করেন। নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ভোটারদের বিপুল সম্মতি ছিল। কিন্তু বিএনপি সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শপথে তা এড়িয়ে যান।
বিএনপি সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিশ্চিত করে সংবিধান কাটাছেঁড়া করার সুযোগ পায়। আওয়ামী লীগও ২০০৮-২০২৪ সালে সংবিধান সংশোধন করে স্বৈরাচারী ক্ষমতা বিস্তার করে। বিএনপি ক্ষমতায় এসে কখনো স্বৈরাচারী আচরণ করেনি। শপথ গ্রহণে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। রাজনৈতিক সততা প্রদর্শনের জন্য নেতা-নেত্রীদের মনের ভিতরের উদ্দেশ্য প্রকাশ না করা এবং লক্ষ্য হাসিলের পর নতুন সুরে কথা বলা জরুরি।
রাজনীতি জটিল শাস্ত্র। সাধারণ মানুষের কাজ ভোট দেওয়া এবং নির্বাচিত শাসকদের দ্বারা শাসিত হওয়া। সময়ের সঙ্গে কিছু উন্নয়ন হবে, তবে বিপুল জনগোষ্ঠীর ভাগে তা সীমিত। পাকিস্তান আমল থেকে বাংলাদেশে জনগণ গণতান্ত্রিক সরকার চেয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর জনগণ আশা করে তিনি দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবেন। সফল শাসক হওয়ার জন্য ব্যক্তিগত বিচক্ষণতা ও নৈতিক গুণাবলির বিকাশ অপরিহার্য।











