বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দলটি পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফিরে যেতে চায় না; বরং ইতিবাচক ধারার রাজনীতির চর্চা করতে আগ্রহী।
রাজধানীতে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার রাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ভোটগ্রহণ ও গণনা-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনীতি যদি দেশের মানুষের জন্য হয়, তাহলে পাস করার গ্যারান্টি নিয়ে কোনো নির্বাচন হতে পারে না। মানুষের কাছে যেতে হবে এবং মানুষ যেভাবে গ্রহণ করবে, সেটাকেই সম্মান জানাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করার রাজনীতি জামায়াত করবে না। ভালো কাজে সহযোগিতা এবং অকল্যাণকর কাজে বিরোধিতা—এই নীতিতেই দল পরিচালিত হবে। জনগণের অধিকার রক্ষায় যেখানে কথা বলা প্রয়োজন, সেখানে দল কথা বলবে।
নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি জানান, এখনো কয়েকটি আসনের ফল ঝুলে আছে। কিছু আসনে দলীয় প্রার্থীরা এগিয়ে থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও স্থানীয় পর্যায়ে ফল ঘোষণা বিলম্বিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, তাদের কাছে সই করা কপিগুলোতে এগিয়ে থাকার তথ্য রয়েছে। কোথাও পোস্টাল ব্যালট মিলিয়ে দেখার কথা বলা হচ্ছে, কোথাও অন্যান্য কারণে সময় নেওয়া হচ্ছে। স্পষ্ট বার্তা পেলে দল আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাবে।
নির্বাচন কমিশন ১৩ তারিখের মধ্যে ফল প্রকাশের আশ্বাস দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গেজেট আকারে ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত মন্তব্য করা হবে না।
দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর একই দিনে গণভোট ও সরকার গঠনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন ভোটাররা। সংস্কারসংক্রান্ত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, যদিও তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি।
সরকার গঠনের নির্বাচনে মূলত দুই জোটের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবেই সবাই জিতবে না—কেউ জিতবে, কেউ হারবে; এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
নির্বাচন-পরবর্তী বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ সংগ্রহ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে অনিয়ম বা সীমা লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি রোধে বিষয়গুলো জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। তবে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে টানাপড়েনের রাজনীতিতে দল যাবে না।
ওয়েবসাইটে ফল আপডেট বন্ধ হওয়া এবং কিছু কেন্দ্রে বিলম্ব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে; চূড়ান্ত তথ্য হাতে না পেয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়া হবে না।
কারচুপির আশঙ্কা আছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সব তথ্য হাতে এলে ১১ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হবে। লাভ-লোকসানের প্রশ্ন নয়, সত্য তুলে ধরাই লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সরকার আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করলে দলের চূড়ান্ত দৃষ্টিভঙ্গি জানানো হবে। তাদের রাজনীতি হবে ইতিবাচক ও কল্যাণমুখী—মানুষের জন্য রাজনীতি, দলের জন্য নয়।











