জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে তিনটি আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট আছে। দুইটি এয়ারপোর্টে এয়ারলাইনস নামে। কিন্তু সিলেটে আসে না। সিলেটিরা মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রেখেছে।
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সিলেটে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হবে। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার থেকে ফ্লাইট সিলেটে আবার আসবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আয়োজনে কুলাউড়ার নবীন চন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই দেশ এগিয়ে যাবে যুবকদের হাত ধরে। এই দেশকে যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। কারণ যুবকরাই ২৪-এর আগস্টে আন্দোলন করে নতুন বাংলাদেশ এনে দিয়েছেন। এটা কারো মুখের কথা নয়, ঠোঁটের কথা নয়—এটা আমাদের বুকের কথা। আবু সাঈদ থেকে ওসমান হাদি—যাদের রক্তে আমরা আজকের এই দেশ পেয়েছি। যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। এই জাতি তাদের কাছে চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকবে।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা পাহাড়ি, সমতল, নিম্নাঞ্চল এবং সব জাতি, বর্ণ ও শ্রেণির মানুষদের নিয়ে একটি শান্তি ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়তে চাই। যেখানে থাকবে না কোনো ভেদাভেদ। একটি শ্রেণি সম্পদের পাহাড় গড়বে, আরেকটি শ্রেণি থাকবে ভুখা—এটা আমরা হতে দেব না।
ডা. শফিকুর রহমান চা শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, আমি চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারে জন্মগ্রহণ করেছি। চা শ্রমিকদের ভুলে গেলে আমি নিজেকেই ভুলে যাব। আমরা তাদের জন্য দুটি বিষয় নিশ্চিত করব—একটি স্বাস্থ্য ও অন্যটি সুশিক্ষা। আমরা চাই না শুধু রাজার ছেলে রাজা হবে, রানির মেয়ে রানি হবে। আমরা চাই যদি একজন শ্রমিক ভাই বা বোনের মেধাবী সন্তান হয় রাষ্ট্র তার মেধা বিকাশের দায়িত্ব নেবে এবং সে একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হবে।
প্রবাসীদের নিয়ে বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অনেক লোকজন দেশের বাইরে যান। সেখানে অনেক প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যু হলে তাদের নিয়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। আমরা এটা চাই না। আমরা চাই রাষ্ট্র তার নিজ দায়িত্বে এই লাশগুলো সম্মানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিয়ে আসবে। আবার কোনো শ্রমিক যদি প্রবাসে কাজ করতে গিয়ে মারা যায়, তার পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া হবে।
হ্যাঁ ভোট নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, গণভোট বাংলাদেশকে বদলে দেওয়ার ভোট, নতুন বাংলাদেশের জন্মের ভোট, চব্বিশের যোদ্ধাদের, শহীদদের আকাঙ্ক্ষার ভোট। সেই ভোট হচ্ছে গণভোট। সেই ভোটে হ্যাঁ হবে। হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামি। জনতার উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, আজাদি না গোলামি? সমস্বরে জনতা বলে উঠেন আজাদি।











