দায়িত্ব পেলে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের চেহারা পাল্টে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত শেষ নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে দেশের মানুষ বঞ্চিত হয়েছে। এই বঞ্চনার অবসান ঘটাতে জামায়াতে ইসলামী দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। দুর্নীতি দূর করা গেলে দেশের শিল্প, ব্যবসা ও অর্থনীতি নতুন গতিতে এগিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে টাকার বিনিময়ে আর বিচার বিক্রি হবে না। বিচারব্যবস্থা হবে ন্যায়ভিত্তিক এবং সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, প্রভাবশালীদের জন্য এক বিচার আর গরিব মানুষের জন্য আরেক বিচার—এই বৈষম্য আর চলবে না।
সিলেট অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিলেটকে দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী বলা হলেও দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চল অবহেলার শিকার। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে সিলেটের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করা হবে এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদেশি ফ্লাইট পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রবাসীদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা হলেও মৃত্যুর পর তাদের লাশ দেশে আনার ক্ষেত্রে পরিবারকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রীয় খরচে ও সসম্মানে প্রবাসীদের লাশ দেশে ফেরত আনা হবে। এমনকি কোনো প্রবাসী আয় শুরু করার আগেই মারা গেলে তার পরিবারের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে।
এছাড়া মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় এক নির্বাচনী জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতি দূর হলে দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং শিল্প ও অর্থনীতি শক্ত ভিত পাবে। তিনি কুলাউড়াকে নিজের জন্মভূমি উল্লেখ করে বলেন, এই এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
হবিগঞ্জের আরেক জনসভায় তিনি বলেন, গরিব ও অসহায় মানুষ ন্যায়বিচার পায় না—এই বাস্তবতা পরিবর্তন করাই জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য। ক্ষমতায় গেলে বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে এবং টাকার বিনিময়ে বিচার কেনাবেচার সংস্কৃতি বন্ধ করা হবে।











