বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তরুণদের হাত ধরেই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান তারা। প্রযুক্তিতে দক্ষ ও অগ্রসরমান এই প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দেবে—এমন প্রত্যাশা তুলে ধরে তিনি বলেন, তরুণদের হাতেই নতুন দেশ তুলে দিতে চান তারা।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতের মতো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার কাজে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে চান তারা। বিভেদ ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে দেশকে মুক্ত করে শান্তি ও ঐক্যের বাংলাদেশ গড়াই তাদের লক্ষ্য। এমন একটি রাষ্ট্র গঠনের কথা বলেন, যেখানে কেবল পারিবারিক পরিচয়ের কারণে কেউ ক্ষমতার কেন্দ্রে বসতে পারবে না; রাষ্ট্র হবে সবার, সরকার হবে জনগণের।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণ নিরাপত্তা, সুশাসন ও ইনসাফ চায়। রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারগুলো সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন। এতে করে সংস্কার প্রক্রিয়া পূর্ণতা পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, এমন একটি দেশ গড়তে চান যেখানে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ক্ষমতাবানদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস যাঁরা দেখিয়েছেন, সেই সাহসী তরুণদের হাতেই দেশের ভবিষ্যৎ তুলে দিতে চান তারা।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, অতীতে শাসক শ্রেণির একটি অংশ রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেছে। এর ফলে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও লুণ্ঠনের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এই ব্যবস্থার অবসান ঘটানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি দাবি করেন, অতীতে জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতিমুক্ত ছিলেন এবং দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে সমাজ নারীর সম্মান রক্ষা করতে পারে না, সেই সমাজ কখনো সমৃদ্ধ হতে পারে না। ক্ষমতায় এলে নারীরা ঘরের বাইরে সমাজের মূলধারার নেতৃত্বে সম্মানের সঙ্গে অংশ নেবেন। করপোরেট জগৎ থেকে রাজনীতি—সবখানেই নারীদের মেধার মূল্যায়ন হবে বৈষম্যহীনভাবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই সমানভাবে নিরাপদ থাকবে। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো সহিংসতা বা নিপীড়নের চেষ্টা হলে তা প্রতিরোধ করা হবে।
অর্থনীতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এজন্য ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার প্রয়োজন, বিশেষ করে ব্যাংকিং খাত ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতগুলোকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।











