প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া কোনো ঘোষণাকেই প্রকৃত অর্থে সুখবর মনে করেন না বলে মন্তব্য করেছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ড. ইউনূস রোহিঙ্গাদের জানিয়েছিলেন—আগামী ঈদ তারা নিজ নিজ বাড়িতে উদ্যাপন করবেন। কিন্তু সেই ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন করে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তার ভাষায়, তিনি ড. ইউনূসের দেওয়া কোনো সুখবরকেই সুখবর মনে করেন না, কারণ এসব ঘোষণার পেছনে অন্ধকার ও ভিনদেশি স্বার্থ থাকে।
বন্দর ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা ভবিষ্যতে বোঝা যাবে। অস্ত্র ও প্রযুক্তি আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়লে পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ইরান, পাকিস্তান, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রযুক্তি শেয়ারিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে এবং ভবিষ্যতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পথেই হাঁটবে।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, বন্দরের সঙ্গে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যাবলিশমেন্টকে যুক্ত করাই একটি পরিকল্পিত নকশা। ডিপি ওয়ার্ল্ড পরিদর্শনে আসা কর্মকর্তাদের বড় অংশ ভারতীয় ছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একদিকে ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান দেওয়া আর অন্যদিকে উচ্চ মুনাফায় বিদেশিদের হাতে বন্দর তুলে দেওয়া—এই দ্বিচারিতা কীভাবে সম্ভব।
তিনি আরও দাবি করেন, শুধু বিদেশি কোম্পানির মুনাফা বাড়ানোর জন্য বন্দরের সেবার চার্জ ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। যদি দেশের স্বার্থেই বন্দর বিদেশিদের দেওয়া হয়, তাহলে আগের রেটে কেন তারা কাজ করতে পারবে না—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, আমদানি-রপ্তানিকারকরা কখনো বন্দর বিদেশিদের হাতে দেওয়ার দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামেননি। তাহলে কার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, সেটিও স্পষ্ট হওয়া দরকার। তাঁর মতে, দেশীয় উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে উৎপাদন ও সেবা খাতকে শক্তিশালী করাই সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রথম শর্ত।
পানি, গ্যাস ও তেলের মতো খাতগুলোকে বিদেশি কর্তৃত্বমুক্ত রেখে সরকার ও জনগণের যৌথ মালিকানায় পরিচালনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বাপেক্সের কর্তৃত্ব কমিয়ে বিদেশি কোম্পানি শেভরনের হাতে দেওয়ার তৎপরতার অভিযোগ করেন তারেক রহমান।
সবশেষে তিনি প্রশ্ন রাখেন, দেশের নিজস্ব উৎপাদন ও সেবা খাতকে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বাবলম্বী না করে একে একে বিদেশিদের হাতে তুলে দিলে জাতি কি কেবল বিদেশে গিয়ে শ্রম বিক্রির ভবিষ্যতের দিকেই এগোবে না?











