গ্রেপ্তার ও কারাবাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলেছেন ঢালিউড চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে নিজের জীবনের সেই কঠিন সময়ের কথা শেয়ার করে তিনি জানান, বিমানবন্দর থেকে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার হওয়া এবং মাত্র দুই দিনের জেলজীবনই তাকে নতুন করে অনেক মানুষকে চিনিয়েছে।
নুসরাত ফারিয়া বলেন, তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে—এমন খবর আগেই শুনেছিলেন। তবে সে সময় তিনি দেশের বাইরে থাকায় বিষয়টি খুব একটা গুরুত্ব দেননি। শুটিংয়ের উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ড যাওয়ার দিন বিমানবন্দরে পৌঁছেই প্রথম বুঝতে পারেন পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ।
ফারিয়ার ভাষ্য, গানের শুটিংয়ের জন্য থাইল্যান্ড যাচ্ছিলাম। ইমিগ্রেশনে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ভাবিনি এমন কিছু হবে। পুলিশ যখন আমাকে আটকে দিল, তখন ভেবেছিলাম হয়তো কোনো ভুল হচ্ছে। কিন্তু ডিটেনশন রুমে নেওয়ার পর বুঝতে পারলাম, আমি গ্রেপ্তার হতে যাচ্ছি। মুহূর্তেই আমার পুরো পৃথিবী থমকে গিয়েছিল।
কারাগার থেকে বের হওয়ার পর সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে মানুষের আচরণে। নুসরাত ফারিয়া জানান, এই ঘটনার পর তার সবচেয়ে কাছের বন্ধুরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তার সঙ্গে তোলা ছবি মুছে ফেলেন। যেন তারা বোঝাতে চান, এই সময়ে তার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চান না। অনেকেই যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
তিনি বলেন, মাত্র ৪৮ ঘণ্টাই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে—কে আমার আপন, আর কে নয়। যাদের জন্য বছরের পর বছর নিঃস্বার্থভাবে সবকিছু দিয়েছি, তাদের আসল চেহারাটাও চিনেছি। আজ তারা ফিরতে চাইলেও, তাদের গ্রহণ করা সম্ভব হবে না।
তবে এই অভিজ্ঞতার মধ্যেও মানবিকতার দৃষ্টান্ত দেখেছেন বলে জানান অভিনেত্রী। ফারিয়া বলেন, জেলের ভেতরে জেলারের থেকে শুরু করে অনেক অচেনা মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা আর সহানুভূতি দেখিয়েছে, তাতে আমি সত্যিই আপ্লুত। তারা আমাকে সম্মান করেছে, কখনো অসম্মান করেনি।
নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা তিনি কিছু খেতে পারেননি। কিন্তু সেখানে থাকা মানুষগুলো তাকে নিজের হাতে খাবার খাইয়ে দিয়েছে—কেউ ভাত, কেউ রুটি, কেউ মিষ্টি কুমড়া। আবেগঘন কণ্ঠে ফারিয়া বলেন, আমি কাঁদছিলাম, আর তারা আমাকে খাইয়ে দিচ্ছিল। এমন মানুষ, যাদের আমি কোনোদিন চিনতাম না।
সবশেষে তিনি বলেন, এই ঘটনাটা খুব ব্যক্তিগত। সবকিছু প্রকাশ করতে চাই না। তবে আমি কৃতজ্ঞ—কারণ সেই কঠিন মুহূর্তে আমি শুধু ভালোবাসাই পেয়েছি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ মে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নুসরাত ফারিয়াকে আটক করা হয়। থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে ভাটারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।











