বরিশাল-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে বাড়ি বাড়ি ভোটের প্রচার করছেন একদল নারী কর্মী। সম্প্রতি বাকেরগঞ্জ উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের বোয়ালিয়া বাজার এলাকায় এ কার্যক্রম দেখা গেছে।
ভোটের মাঠে পুরুষ প্রার্থীর নাম, প্রতীক ও স্লোগান সামনে থাকলেও ঘরের ভেতরে ভোট চাওয়ার কাজ পরিচালনা করছেন নারীরাই। তাদের মধ্যে কেউ সাবেক শিক্ষক, কেউ গৃহিনী, কেউ ধর্মীয় তালিমের সঙ্গে যুক্ত।
নারীরা স্বীকার করেছেন যে, তাদের প্রচার শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়; সামাজিক সম্পর্ক ও ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে করা হচ্ছে। পুরুষ কর্মীরা যেখানে ঘরের ভেতরে ঢুকতে পারেন না, সেখানে নারী কর্মীরা সহজেই প্রবেশ করছেন। রান্নাঘর, উঠান এবং তালিমের আসর—এই ব্যক্তিগত স্থানগুলো ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।
বোয়ালিয়া ইউনিয়নের নাসিমা খানম এলাকায় বিশেষ সামাজিক অবস্থানের কারণে বিশ্বাসযোগ্য মুখ হিসেবে গণ্য। তিনি বলেন, ‘আমি একটা কথা বললে মানুষ মনে করে, আপা বলছে মানে গুরুত্ব আছে।’ এই বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে নারী কর্মীরা ভোটের প্রচার চালাচ্ছেন। জামায়াতের নারীদের প্রচারণা দলগতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, বরিশাল-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুন্নবী ধর্মের নামে ভোট চাওয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘এগুলো প্রতিপক্ষের সাজানো অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সম্পাদক রফিকুল আলম মন্তব্য করেছেন, প্রার্থীরা নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষায় সতর্ক থাকেন, কিন্তু এর মূল্য দিচ্ছেন নারীরাই। সামাজিক সম্পর্কের ঝুঁকি, ধর্মীয় দায়—সব মিলিয়ে তারা হয়ে উঠছেন রাজনৈতিক ব্যবস্থার নীরব ও অদৃশ্য কর্মী।











