নিউইয়র্কের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন মুসলিম অভিবাসী তরুণ জোহরান মামদানি। উগান্ডার এক প্রবাসী পরিবার থেকে উঠে এসে আজ তিনি মার্কিন রাজনীতির এক উজ্জ্বল মুখ—এমন সাফল্য অনেকের কাছেই অসম্ভব মনে হলেও, জোহরান সেটি সম্ভব করে দেখিয়েছেন নিজের পরিশ্রম ও মানবিক আদর্শে।
১৯৯১ সালের ১৮ অক্টোবর উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় জন্ম জোহরানের। তাঁর বাবা মাহমুদ মামদানি একজন খ্যাতনামা সমাজবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক, আর মা মীরা নাইর আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত চলচ্চিত্র নির্মাতা। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন জোহরান, আর নিউইয়র্কের বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠেন এক সচেতন নাগরিক হিসেবে।
শিক্ষাজীবনে তিনি মেইনের বোডউইন কলেজ থেকে আফ্রিকানা স্টাডিজে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তরুণ বয়সে তিনি একজন আবাসন পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেন—নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ ও আর্থিক সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করা ছিল তাঁর কাজ। এখান থেকেই সমাজের জন্য কিছু করার তাগিদ জন্ম নেয় তাঁর ভেতরে।
২০২০ সালে জোহরান মামদানি প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নেন নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির ৩৬ নম্বর আসন থেকে—যেখানে কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়া ও লং আইল্যান্ড সিটির বাসিন্দারা তাঁকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেন। মুসলিম ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর জয় শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক বার্তাও বয়ে এনেছিল।
তিনি দ্রুতই পরিচিত হন প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ হিসেবে—“সবার জন্য বাসস্থান”, “সবার জন্য পরিবহন” ও “সবার জন্য ন্যায়বিচার”—এই তিনটি মূল নীতির পক্ষে তিনি সোচ্চার ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিতে নতুন আশার আলো দেখা যায়।
২০২৫ সালের নির্বাচনে তিনি আবারও ইতিহাস গড়েছেন—এক মুসলিম অভিবাসী পরিবার থেকে উঠে এসে মার্কিন রাজনীতির মূলধারায় জায়গা করে নিয়েছেন, যা অনেকের কাছে প্রেরণার প্রতীক।
আজ জোহরান মামদানি শুধু এক রাজনীতিক নন, বরং প্রমাণ যে—অভিবাসীর সন্তান হয়েও আমেরিকান স্বপ্ন বাস্তব হতে পারে। তাঁর গল্প আজ অনেক তরুণের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম।











