ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার চরলাপাং এলাকায় মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য দেওয়া ইজারার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ইজারাদারের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা গ্রামবাসীর প্রতিবাদে অতর্কিতভাবে গুলি চালালে অন্তত ১০ জন আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দা সফর মিয়া অভিযোগ করেছেন, ‘হয় ইজারা বাতিল করুন, নয় আমাগোরে গুলি কইরা মাইরা ফালান।’ নদী ও প্রকৃতি সংরক্ষণে কাজ করা সংগঠন তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ, শিক্ষক নেতা আলী আহমেদ মীর ও স্থানীয় সাংবাদিকরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মেহনতি গ্রামবাসীরা জানান, ইজারার শর্ত ভেঙে শতাধিক ড্রেজার দিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, এতে চরলাপাং ও আশপাশের গ্রামগুলো নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রতিবাদ করলে ইজারাদারের লোকজন ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেজারের সঙ্গে থাকা অস্ত্রধারীরা অন্যের জমি থেকে ফসল কেটে নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
নবীনগর উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও সংসদ সদস্য অ্যাড. এম এ মান্নান জানিয়েছেন, জনস্বার্থে বালুর ইজারা বন্ধে দ্রুত উদ্যোগ নেবেন। জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেছেন, বালুর ইজারার মেয়াদ দুই মাস বাকি থাকলেও নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পেলে ইজারাও বাতিল করা হবে।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গুলিতে আহতদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে।











