আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ‘সিটিজেনস ফর হিউম্যান রাইটস’।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশ স্বাধীন হওয়ার এত বছর পরও সংখ্যালঘু মানুষরা বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচন এলে তাদের মনে আতঙ্ক বেড়ে যায়। এবারও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আজ রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন। তিনি জানান, গত ১ ফেব্রুয়ারি একটি প্রতিনিধিদল চট্টগ্রামের রাউজান ও মিরসরাইয়ের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে। সেখানে দেখা গেছে, গত নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত অনেকগুলো সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
রাউজানে অন্তত ১২টি এবং মিরসরাইয়ে ৭টি বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি রাতে ঘুমন্ত মানুষজন ঘরে রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টাও করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এসব সহিংসতা ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। ভয়ে অনেকে দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে, যা দেশের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
এই উদ্বেগ নিরসনে সংখ্যালঘু এলাকায় ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে নবগঠিত মানবাধিকার কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ। কিন্তু বর্তমানে সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দিয়ে ভোটদান থেকে দূরে রাখাই এই সহিংসতার মূল উদ্দেশ্য। সংখ্যালঘুদের অধিকার ভূলুণ্ঠিত করার চেষ্টা কখনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যে পড়ে না।’
নির্বাচনের মাধ্যমে আগামীতে যে সরকার আসবে, সেই সরকার অবশ্যই এই জাতিগত বৈচিত্র্যকে রক্ষার উদ্যোগ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, আদিবাসী, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সংখ্যালঘুদের ওপর সংঘটিত বেশির ভাগ সহিংসতার পেছনে নানা উদ্দেশ্য থাকে এবং পরিকল্পিতভাবে ঘটনানো হয়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা যাতে নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে আসতে পারে সে পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তাওহিদ আহমেদ রানা, ব্লাস্টের অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মাহবুবা আক্তার, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সতেজ চাকমা, মানবাধিকারকর্মী দীপায়ন খীসা প্রমুখ।











