বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমানো এবং জ্বালানি সার্বভৌমত্ব নিশ্চিতের লক্ষ্যে একশনএইড বাংলাদেশ ও জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি) ১৪ দফা নাগরিক ইশতেহার ঘোষণা করেছে।
ইশতেহারে ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ২০৫০ সালের মধ্যে নেট-জিরো কার্বন নিঃসরণ অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘জ্বালানির জন-মালিকানা : বাংলাদেশের ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর’ শীর্ষক এই নাগরিক ইশতেহার উপস্থাপন করা হয়। একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবিরের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আইআইইএফএর লিড অ্যানালিস্ট ও জেটনেট-বিডির উপদেষ্টা সদস্য শফিকুল আলম বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে একটি পেপার উপস্থাপন করেন।
একশনএইড বাংলাদেশ ও জেটনেট-বিডির সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ নাগরিক ইশতেহারের দাবিনামা পাঠ করেন। এ সময় বক্তব্য দেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য ড. ম. তামিম, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন, জলবায়ু অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন খান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক খসরু মোহাম্মদ সেলিম, বিএসআরইর সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, জেটনেট-বিডির সদস্য সংগঠন নেকমের প্রধান নির্বাহী মনজুরুল হান্নান খান, পরিবেশ রক্ষা উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন এবং যুব সংগঠন সূর্যোদয়ের রায়হান নোমান নূরনবীসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৭ শতাংশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে পূরণ হচ্ছে, যার মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই আমদানিনির্ভর। প্রতিবছর প্রায় ১.৫ লাখ কোটি টাকা ব্যয় হওয়ায় জাতীয় অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা মারাত্মক চাপে পড়ছে।
নাগরিক ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সমন্বিত জাতীয় জ্বালানি রূপান্তর নীতিমালা প্রণয়ন, ব্যয়বহুল ও আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেশীয় নবায়নযোগ্য উৎসে রূপান্তর, কৃষি, শিল্প ও পরিবহন খাতে খাতভিত্তিক নেট-জিরো রোডম্যাপ প্রণয়ন, বিইআরসিকে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রাংশ আমদানিতে পাঁচ বছরের জন্য শূন্য শুল্ক সুবিধা প্রদান।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কার্যকর জাতীয় নীতিমালা ও পরিকল্পনার অভাবে তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। দেশীয় বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে বাস্তবসম্মত জ্বালানি নীতি ও মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর জোর দেন তাঁরা।











