বাংলাদেশের স্থাপত্যশৈলীর ইতিহাসে সুলতানি আমল এক স্বর্ণযুগ। সেই সময়ের এক অনন্য নিদর্শন হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জের দারাসবাড়ি মসজিদ। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সন্ধানে যারা ঘুরতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এই প্রাচীন মসজিদটি আদর্শ স্থান হতে পারে।
গৌড়-লখনৌতির বাংলাদেশ অংশে অবস্থিত এই মসজিদ ওই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মসজিদ।
ঐতিহাসিক তথ্য ও কলকাতার ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে সংরক্ষিত শিলালিপি অনুযায়ী, ১৪৭৯ খ্রিস্টাব্দে সুলতান শামসুদ্দীন আবুল মুজাফফর ইউসুফ শাহ এটি নির্মাণ করেন। একসময় মসজিদের ছাদে ২৪টি গম্বুজ এবং ৪টি চৌচালা আচ্ছাদন ছিল। কালের বিবর্তনে গম্বুজগুলো ধসে পড়লেও এর ইট ও পাথরের স্তম্ভগুলো আজও দাঁড়িয়ে আছে। মসজিদের কারুকাজ ও অষ্টভুজাকৃতির বুরুজগুলো পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
মসজিদের ঠিক পাশেই রয়েছে একটি প্রাচীন মাদরাসা ও বিশাল জলাধার, যা একসময় একটি পূর্ণাঙ্গ মুসলিম শিক্ষা কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত ছিল।
কিভাবে যাবেন :
বাসে : ঢাকা থেকে হানিফ, শ্যামলী বা মডার্ন এন্টারপ্রাইজের বাসে সরাসরি চাঁপাইনবাবগঞ্জ বা রাজশাহী হয়ে যাওয়া যায়।
ট্রেন : প্রথমে ঢাকা থেকে রাজশাহী আসতে হবে। এরপর রাজশাহী থেকে বাস বা ট্রেনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
স্থানীয় যাতায়াত : চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে সিএনজি, অটোরিকশা বা বাসে করে সহজেই মসজিদের কাছে পৌঁছানো যায়।
পর্যটকদের জন্য টিপস :
বর্তমানে এটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও ধ্বংসাবশেষের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সুলতানি আমলের আভিজাত্য। ভারতীয় সীমান্তের একেবারে কাছে অবস্থিত এই নির্জন এলাকায় ঘুরে বেড়ানো ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হবে।











