ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. শামীম আহসান। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ দুঃখ প্রকাশ করেন।
এর আগে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের কাটাখালী এলাকায় অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ডাকসু নিয়ে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করেন তিনি। ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
নির্বাচনী জনসভায় মো. শামীম আহসান বলেন, ডাকসু একসময় মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আড্ডায় পরিণত হয়েছিল এবং ইসলামী ছাত্রশিবির তা পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। তার এ বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
সমালোচনার মুখে ফেসবুকে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। শামীম আহসান বলেন, ২০২৪ সালের আগে ডাকসু নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের দখলে ছিল। সে সময়ের ডাকসু ব্যবহার করে কিছু নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদক, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির আখড়ায় পরিণত করেছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও রমনা পার্ককে কেন্দ্র করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো, যা বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের দায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওপর বর্তায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতের এ নেতা বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর ২০২৪ সালের ডাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেল নির্বাচিত হয়। এরপর থেকে ডাকসু চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, সিট বাণিজ্য ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভূমিকা রেখে চলেছে। তিনি বলেন, তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা। তবে তার বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।











