দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাজনীতিতে সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে শামীম আরা বেগম স্বপ্না-র নাম। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০টির মধ্যে সম্ভাব্য ৩৫টি আসন পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
এই প্রেক্ষাপটে কক্সবাজার ও বান্দরবান অঞ্চল থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাঁর নামই সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও আইন পেশায় সাফল্যের কারণে কেন্দ্র ও তৃণমূল—উভয় পর্যায়েই তিনি গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচিত।
শামীম আরা বেগম স্বপ্না জানান, তিনি ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এ ছাত্ররাজনীতি শুরু করেন। ১৯৮৪ সালে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর আইনশাস্ত্রে অধ্যয়ন করেন এবং ১৯৮৬ সালে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আইন পেশায় যোগ দেন।
পরবর্তীতে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে কক্সবাজার জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ওয়ান-ইলেভেন-পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত জেলা বিএনপির সম্মেলনে তিনি কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দলের কঠিন সময়ে সাংগঠনিক পুনর্গঠন, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং তৃণমূলকে সক্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে কক্সবাজারের চারটি আসনেই বিএনপির বিজয়কে অনেকে তাঁর সাংগঠনিক সক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
পেশাগত জীবনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ২০০১ সালে দেশের প্রথম নারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আইন অঙ্গনে স্বীকৃতি অর্জন করেন। দীর্ঘ চার দশকের আইন পেশায় অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ মামলা পরিচালনা করেছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়ে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পক্ষে বিনা পারিশ্রমিকে মামলা পরিচালনা, আইনি সহায়তা প্রদান এবং কারাবন্দিদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মামলায় নিজেও একাধিকবার জড়িয়েছেন, তবুও অবস্থান থেকে সরে যাননি।
এদিকে কক্সবাজার ও বান্দরবান থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে তাঁকে মনোনয়নের দাবিও জোরালো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তাঁর ত্যাগ, অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও পেশাগত সাফল্যের কারণে তিনি এ আসনের জন্য যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।











