ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সেন্ট মার্টিন দ্বীপসহ ১১৫টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে উখিয়া-টেকনাফ উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হয়। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে কোস্টগার্ডের কড়া নিরাপত্তায় সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার ও সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। দ্বীপ এলাকায় কোস্টগার্ডের পাশাপাশি নৌবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে উখিয়া ও টেকনাফের অন্যান্য কেন্দ্রেও ব্যালট ও সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর নিরাপত্তায় এসব সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, “কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যালট পেপার কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে নির্ধারিত বিধি অনুসরণ করেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না।”
জানা গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ আসনের ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার কেন্দ্রগুলোতে আগের দিন ব্যালট পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এই আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী এবং জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির ও টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চারবারের চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা নুরুল হক এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)-এর সাইফুদ্দিন খালেদ প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। তবে মাঠের পরিস্থিতিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উখিয়া উপজেলায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। সেখানে ৫৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩২টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। টেকনাফে ৬১টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ। উভয় উপজেলা মিলিয়ে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮১৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৮২ জন, নারী ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৫১ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৬ জন।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা বলেন, “সকাল থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে নির্বাচনী সরঞ্জাম কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।” প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, “বেলা ১১টা থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়েছে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করবে।











