বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজদের পুনর্বাসন নয়; বরং তাদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা চাঁদাবাজিতে জড়াতে না হয়। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত মনোনীত ও ১১ দল সমর্থিত মেহেরপুর-১ আসনের প্রার্থী তাজ উদ্দিন খান এবং মেহেরপুর-২ আসনের প্রার্থী নাজমুল হুদার সমর্থনে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মেহেরপুর একটি ছোট জেলা, মাত্র তিনটি উপজেলা। মানুষ একে অপরকে চেনে। অথচ এই জেলাও চাঁদাবাজদের দখলে চলে গেছে। জনগণের রায়ে আমরা ক্ষমতায় এলে এসব মানুষের দায়িত্ব নেব, তাদের কাজ দেব—যাতে চাঁদাবাজি করতে না হয়।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি। আমাদের প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’ ভোট। সবাই যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করে, দেশ বিজয়ী হবে। ভোটের দিন কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। কেউ ভোট ডাকাতি করতে এলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
গত ৫৪ বছরের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, “এই সময়ে দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তরুণ সমাজ মাদক ও নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। তাদের জন্য আমাদের মায়া হয়। দায়িত্ব পেলে দেশকে ফুলের মতো সাজাবো, যাতে মানুষ দেশ নিয়ে গর্ব করতে পারে।”
চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাঁদাবাজি করব না, দুর্নীতি করব না, দুর্নীতিকে প্রশ্রয়ও দেব না। মানুষ ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে কাকে ভোট দেবে।”
বেকার ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা বেকার ভাতা দেব না—রাষ্ট্রের টাকা থাকলেও না। ভাতা দিলে বেকারত্ব কমে না, বরং বাড়ে। আমরা ভাতা নয়, কাজ দেব।”
তিনি আরও বলেন, “তরুণদের শক্তিতেই দেশ এগিয়ে যাবে। সেই লক্ষ্যেই যুব সমাজকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।”
জনসভা শেষে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান মেহেরপুরের দুই আসনের প্রার্থীদের হাতে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।











