প্রায় তিন দশক পর বান্দরবান-৩০০ আসনে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে। দলের প্রার্থী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ভোট পেয়ে আসনটি দখল করেছেন।
বেসরকারি ফলাফলের অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৫ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত ও ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী এস এম সুজা উদ্দিন শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ১৬২ ভোট। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী মো. আবুল কালাম হাতপাখা পেয়েছেন ৪ হাজার ৭১৮ ভোট এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু জাফর মো. ওয়ালিউল্লাহ লাঙ্গল পেয়েছেন ২ হাজার ৪৩৫ ভোট।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান মিটন বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর বান্দরবানে ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত, যা ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে।’
একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে বান্দরবানে ‘না’ ভোট জয়ী হয়েছে। সেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৬৮ হাজার ৮১৭টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৮৯ হাজার ৩৬৬টি।
বান্দরবান-৩০০ আসনে ৭টি উপজেলা, ২টি পৌরসভা ও ৩৪টি ইউনিয়ন রয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪২২ জন; এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৭৫ এবং নারী ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪৭ জন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্বে ছিলেন ২৫ জন ম্যাজিস্ট্রেটসহ ৬ হাজার ৬১৪ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
বিজয়ের পর রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী বলেন, ‘এই জয় পাহাড়ের মানুষের। আমি উন্নয়ন, শান্তি ও সম্প্রীতির রাজনীতি এগিয়ে নেব।’ শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে জেলার বিভিন্ন মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্য বিশেষ দোয়া করা হয় এবং বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারেও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়রা মনে করেন, দীর্ঘ ৩০ বছর পর এই ফলাফল কেবল রাজনৈতিক পালাবদল নয়, বরং পাহাড়ি জনপদের মানুষের প্রত্যাশা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রতিফলন। অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান—এসব ইস্যুতে এখন নতুন প্রতিনিধির দিকে তাকিয়ে আছে বান্দরবানের মানুষ।











